প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রেলে দুর্নীতি প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি

২০১৯ সালে রেলে দুর্নীতির ১০ উৎস চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে ১৫ সুপারিশ করে দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রেলওয়ের জলাশয়-পুকুর ইজারা, যন্ত্রপাতি কেনাকাটা, নিলাম, টিকিট কালোবাজারি, জমি দখলসহ দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত। রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বহিরাগত দালাল ও চক্রের সঙ্গে আঁতাত করে বছরের পর বছর দুর্নীতি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুদকের ওই প্রতিবেদন রেলমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তখন দুর্নীতি রোধে সরকারের ‘শূন্য সহনশীল’ নীতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেছিলেন, প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ রয়েছে, সে আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এরপর দুদকের সুপারিশের আলোকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না, আমাদের জানা নেই। তবে শেয়ার বিজসহ গণমাধ্যমে রেলের বড় অনিয়ম-দুর্নীতির কথাই এসেছে নানাভাবে। দেশের অর্থ পাচার বা লোপাটেরও অভিযোগ ছিল। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘রেলে দুর্নীতির পুরস্কার পদোন্নতি’ আমাদের হতাশ করে। এতে বলা হয়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ উপার্জন এবং বিদেশে পাচারের জন্য দুদকের একাধিক মামলার আসামি গ্রেপ্তার এড়াতে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন। এরপরও চাকরিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তাকে সরকারি রেল পরিদর্শক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যদিও ২৪ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুদক। এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া দুঃখজনক। দুর্নীতি মামলার আসামিকে যেখানে সাময়িক অব্যাহতি দানের কথা, সেখানে তিনি কিনা পেয়েছেন পদোন্নতি!

দুর্নীতিগ্রস্তরা পদোন্নতি পেলে দুদক কর্মকর্তারা দুর্নীতি উদ্্ঘাটন করে কারও ব্যক্তিগত শত্রু হওয়ার ঝুঁকি নেবেন না। সাধারণত দুর্নীতি সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ স্বউদ্যোগে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার পক্ষে অন্য কেউ দাখিলকৃত আবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন বিষয়ে আইন দ্বারা কমিশনকে অর্পিত যে কোনো দায়িত্ব পালন করে দুদক। এখন কোনো সংস্থা স্বীয় কর্মীকে দায়মুক্তি দিলে দুদক কীভাবে ব্যবস্থা নেবে। দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় বিবেচিত অন্য যে কোনো কার্য সম্পাদন করতে পারে দুদক। অথচ আইনের ফাঁকফোকরে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন। হয়তো এবার মানহানির অভিযোগও আনবেন তিনি। তাহলে একজন ‘ভালো’ লোককে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করার দায়ে উল্টো ফেঁসে যাবে দুদক।

অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি না হলে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধের সব প্রয়াস ভেস্তে যাবে। মহামারি কভিডের সংক্রমণ শুরুর দিকে সুরক্ষা সামগ্রী কেনায় দুর্নীতির ঘটনায় রেলওয়ের কয়েক কর্মকর্তার অতিরিক্ত সরকারি অর্থ খরচ করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের অনেককেই শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। এখন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতরা পদোন্নতি পাচ্ছে। আমরা মনে করি, দুর্নীতি বন্ধে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান কঠোর পদক্ষেপ না নিলে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়।