রেলে বিনিয়োগের সুফল নিশ্চিত হোক

গত ১০ বছরে দেশের রেল খাতে বিশাল অঙ্কের ভৌত বিনিয়োগ হয়েছে। নতুন নতুন রেললাইন নির্মাণের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে অনেক আধুনিক কোচ ও লোকোমোটিভ। যদিও যাত্রীসেবার মান তেমন বাড়েনিÑতা সত্ত্বেও দেশের মানুষের মধ্যে রেলে ভ্রমণের আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে দেশের কোনো রুটে রেলের আসন ফাঁকা থাকার নজির নেই বললেই চলে; তা সত্ত্বেও বিপুল অঙ্কের লোকসান গুনে চলেছে রাষ্ট্রীয় এ সংস্থাটি। এত উদ্যোগের পরও রেলে অব্যাহতভাবে লোকসানের বোঝা ভারী হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংস্থাটি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি লোকসানের কারণ পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে অনুসন্ধান হওয়া জরুরি বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘বিনিয়োগের প্রভাব নেই: ১০ বছরে রেলের লোকসান ১৩ হাজার কোটি টাকা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ২০১১ সালে পৃথক রেল মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বরাদ্দ বৃদ্ধি, নতুন ট্রেন চালুসহ সারাদেশকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বেশকিছু বড় প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এত কিছুর পরও ধুঁকে চলছে রেল। বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুফল মিলছে না কোনোভাবেই। ১০ বছরে ৫২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে রেল খাতে। কিন্তু এ বিনিয়োগের সুফল পায়নি রাষ্ট্র ও যাদের অর্থে এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, সেই জনগণ।

সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক ভ্রমণ মাধ্যম হিসেবে সারাবিশ্বেই রেল বেশ জনপ্রিয়। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে দূরপাল্লার অধিকাংশ ভ্রমণে যাত্রীদের প্রথম পছন্দ থাকে রেল। অথচ আমাদের দেশে এর উল্টো চিত্র। এত ভালো একটি যাতায়াত মাধ্যমকে অজনপ্রিয় করে তোলার জন্য প্রতিনিয়ত চলছে নানা চক্রান্ত। রেল ভ্রমণে মানুষ যাতে নিরুৎসাহিত হয়, সে জন্য একটি চক্র যাত্রীদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে প্রায়শই। যারা পাথর নিক্ষেপ করে আটক হন, তাদের দেখলেই বোঝা যায়, তারা হয়তো ভবঘুরে অথবা কারো মদত পেয়ে এ জঘন্য কাজ তারা করে চলেছে। কিন্তু যারা পাথর নিক্ষেপ করে, তাদের পেছনের কুশীলবরা অধরাই থেকে যায়। রেলকে অকার্যকর যাতায়াত মাধ্যমে পরিণত করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করা সরকারের একান্ত কর্তৃব্য।

বর্তমান সরকার দুর্নীতির দায়ে দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদেরও জেলে পুরেছে। কাজেই রেলে পাথর নিক্ষেপ বা এটিকে অজনপ্রিয় করে তুলতে যারা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তারা যদি সরকারের ঘনিষ্ঠও হয়ে থাকে, তাহলেও তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে সাধারণ মানুষ আশাবাদী।

এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, রেলে যে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ হয়েছে, তার জোগান নিশ্চিত করেছেন এ দেশের সাধারণ জনগণ তাদের করের অর্থে। কারও দয়া বা অনুদানে নয়, বরং আমাদের দেশের মানুষের ঘাম ঝরানো করের অর্থে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। তাই সে করের প্রতিটি অর্থের সদ্ব্যবহার যাতে হয়, তা নিশ্চিত করা সরকারের একান্ত কর্তব্য।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৯০  জন  

সর্বশেষ..