রেল ভ্রমণ নিরাপদ করতে ব্যবস্থা নিন

যোগাযোগের ক্ষেত্রে ট্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, সন্দেহ নেই। সড়কপথে দুর্ঘটনা, যানজটসহ বিভিন্ন কারণে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্রেন ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। আবার বিনা টিকিটের যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রকৃত যাত্রীরা রেলভ্রমণে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় বিনা টিকিটের যাত্রীর চাপে আসনে ঠিকমতো বসতে পারেন না টিকিটধারী যাত্রীরা। ভিড়ের কারণে সঙ্গে থাকা ব্যাগও খোয়ান অনেকে।

ট্রেনে উপেক্ষিত রয়ে গেছে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ও। এতে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীসাধারণ। ছিনতাইতারীরা কৌশলে যাত্রীদের স্বর্ণালঙ্কার, টাকা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য দামি জিনিস ছিনিয়ে নিচ্ছে। বেনাপোল-যশোর-খুলনাসহ কিছু কিছু রুট চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ট্রেনের সাধারণ যাত্রীরা চোরাকারবারিদের দ্বারা বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে। ট্রেনের শৌচাগার থেকে আসনের নিচে-ওপরে অবৈধ পণ্য থাকে। অনেক সময় ওই পণ্য রাখা নিয়ে প্রশ্ন করে নাজেহাল হন যাত্রীরা। ঢিল নিক্ষেপ, ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য, চোরাকারবারিদের উপদ্রব সত্ত্বেও ট্রেনকে নিরাপদ মনে করেন সবাই। সব বিড়ম্বনা ছাপিয়ে ময়মনসিংহে ট্রেনে দুই যাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি সামনে আসবে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনে দুজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র?্যাব। রোববার সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ট্রেনের পেশাদার ছিনতাইকারী, সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য; সুযোগ বুঝে ডাকাতি করত। চক্রটি প্রথমে টার্গেট শনাক্ত করে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে কেউ নিরাপত্তা দিত, কেউ লুণ্ঠিত পণ্য সংগ্রহ করে বিক্রি করত আর বাকিরা সরাসরি ডাকাতির কাজে সম্পৃক্ত থাকত।

আগে ছোটখাটো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এখন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা জোরদার করা, জনবল বাড়ানোসহ যাত্রীদের সুরক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে। সব ট্রেনে রেলওয়ে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।

অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নিয়ে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের কর্তৃপক্ষ ও জিআরবি পুলিশ। তথ্য পেলে জিআরবি ট্রেন তল্লাশি করে। কিন্তু তথ্য দেবে কে? পুলিশ তৎপর থাকলে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের পাকড়াও করা কঠিন নয়। তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। রেলস্টেশন ও ট্রেনে কড়া নজরদারিও আওতায় আনা গেলে সন্দেহজনক গতিবিধি চিহ্নিত করা যায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করা গেলে সুফল মিলবে। বর্তমান সরকার রেলে আধুনিকীকরণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু যাত্রীদের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। সময় ও স্বস্তিকর ভ্রমণের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি। যাত্রীরা নিরাপত্তা পেলেই ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হবে।

সর্বশেষ..