সম্পাদকীয়

রেল সেতু নির্মাণ ও সংস্কারে আশু উদ্যোগ প্রয়োজন

দেশের বেশিরভাগ রেল সেতু ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। ৯০ শতাংশেরই আয়ুষ্কাল শেষ। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলে বিঘœ ঘটে। শত বছরের পুরোনো সেতু প্রায়ই মেরামত করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ-জরাজীর্ণ ও জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা সেতুর ওপর ট্রেন চলাকালে যাত্রীরা আতঙ্কিত বোধ করেন। একটু এদিক-সেদিক হলেই ঘটে দুর্ঘটনা। রেল সেতুতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হতাহত হয় যাত্রী। পরিসংখ্যান মতে,  প্রায়ই ট্রেন লাইনচ্যুত হলেও ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে রেল সেতুকেন্দ্রিক।

বেশি পুরোনো সেতুগুলো ঝুঁকিপূর্ণই নয়, চরম আতঙ্কেরও বটে। দুই অঞ্চলে (পূর্ব-পশ্চিম) কেপিআইভুক্ত সেতু রয়েছে প্রায় ৪৫টি। সেতুগুলোর মধ্যে ৯০ শতাংশেরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ বলছে, নির্মাণের ৫০-৫৫ বছর পর সেতুর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে এক-দেড়শ বছরের সেতু কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন: সারা দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ রেল সেতু ১২৭০টি’ শীর্ষক প্রতিবেদন দেশের রেল সেতুর দুরবস্থাকে নতুন করে সামনে এনেছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলপথ রয়েছে দুই হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার। এসব পথে ছোট-মাঝারি ও বড় মিলিয়ে তিন হাজার ৬৫০টির বেশি রেল সেতু রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৭০টি সেতুর আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। সেতুগুলো পুনর্নির্মাণে নেওয়া হচ্ছে ৬ হাজার ৮১৫ কোটি টাকার দুই প্রকল্প।

রেল দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে রেল সেতুগুলো সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণ করা সময়ের দাবি।

গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রুটে দুর্ঘটনা ঘটেছে। একাধিক ঘটনায় রেল চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকে। নির্মাণকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অনেক সেতুর স্থায়িত্ব কমে ও সক্ষমতা হারায়। এসব সেতু সময়োপযোগী করে পুনর্র্নির্মাণেরও কোনো বিকল্প নেই।

রেল সেতুগুলো নামেমাত্র মেরামত করা হয়, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের কোনোমতে রং-চুন লাগিয়ে নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। রেলপথ কিংবা সেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। প্রতিদিনই এর দেখভাল করার নিয়ম করতে হয়। পাথর দিয়ে তৈরি কিছু সেতু প্রতি বছরই মেরামত করতে হয়। এত পুরোনো সেতু মেরামত করেও যথাযথ করা সম্ভব হয় না। তাই নির্দেশনা থাকে এসব সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন যেন গতি কমিয়ে চালানো হয়।

আয়ুষ্কাল শেষ হওয়া সেতুগুলো পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারে দুটি পৃথক প্রকল্প নিতে যাচ্ছে রেলওয়ে। এর মধ্যে মেজরগুলোর স্থলে গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হবে। আর মাইনর সেতুগুলোর স্থলে নির্মাণ করা হবে বক্স কালভার্ট। যথানিয়মে বরাদ্দকৃত টাকার কাজ করলে এসব গার্ডার ও মাইনর সেতু রেল যোগাযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। নির্মাণ ও সংস্কারে দায়িত্বশীলদের সচেতনতা নয়, কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অবশ্য এক-দেড়শ’ বছরের পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পুনর্বাসনের মাধ্যমে কতটা সচল রাখা যায়, সেটিও লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..