প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রেস্তোরাঁ স্বাস্থ্যসম্মত হোক নিয়ম মেনে চলুক

সম্প্র্রতি বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানীর চারটি রেস্তোরাঁকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকেও এ ধরনের অভিযান চালানো হয়। রেস্তোরাঁ এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গা, যেখানে সব ধরনের নিয়ম মেনে কাজ করা উচিত। খাবারের মান বজায় রাখা থেকে ক্রেতাদের যথাযথভাবে রসিদ প্রদান সবকিছুতে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন। রেস্তোরাঁ একদিকে জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত; তেমনি এটি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও।

বাংলাদেশে প্রচুর রেস্তোরাঁ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়টি গুণগত মান বজায় রেখে খাবার পরিবেশন করে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। বড় শহরের কিছু রেস্তোরাঁয় হয়তো এসব মানা হয়; কিন্তু খোঁজ নিলে দেখা যাবে, বেশিরভাগই অস্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে, রান্নাঘরের অবস্থা থাকে সবচেয়ে করুণ। রেফ্রিজারেটরে খাবার সংরক্ষণের নিয়মকানুনও মানা হয় না। দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রতিদিন খাবারের জন্য রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভর করে। শখ করে রেস্তোরাঁয় যাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। এ অবস্থায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রভাব সরাসরি ওইসব ভোক্তার ওপর পড়ে। পরোক্ষ প্রভাব হিসেবে স্বাস্থ্যখরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তো রয়েছেই।

জাতীয় অর্থনীতিতে রেস্তোরাঁর বড় অবদান রয়েছে। দেশের রেস্তোরাঁগুলোতে প্রচুর কর্মসংস্থান হয়েছে। শুধু রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরশীল পেশার সংখ্যাও কম নয়। জাতীয় আয়ে তাদের সম্মিলিত অবদান উল্লেখযোগ্য। তবে যে বিষয়টি উদ্বেগজনক রেস্তোরাঁর আয় থেকে নিয়মানুযায়ী সরকারের কোষাগারে ভ্যাট জমা না হওয়া। বড় রেস্তোরাঁ বাদে অধিকাংশ রেস্তোরাঁর সেবামূল্য পরিশোধ ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় নয়। সেগুলোতে ক্রেতাকে রসিদও দেওয়া হয় না, ভ্যাট তো দূরের ব্যাপার। সবক্ষেত্রে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা যে ইচ্ছে করে কাজগুলো করেন তাও নয়, বরং নির্দিষ্ট মেশিন ব্যবহার করে ক্রেতাকে রসিদ দেওয়ার সংস্কৃতিটিই গড়ে ওঠেনি। একই কথা প্রযোজ্য রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপনা নিয়ে। একটি রেস্তোরাঁয় বাধ্যতামূলকভাবে হাত-মুখ ধোয়ার জায়গা এবং পরিচ্ছন্ন টয়লেট থাকা প্রয়োজন, যা এক শতাংশ রেস্তোরাঁয়ও আছে কি না সন্দেহ। ক্রেতা বা গ্রাহক হিসেবেও এসব বিষয়ে আমরা সচেতন নই। সুখের বিষয়, রেস্তোরাঁ ব্যবসায় অনেক উদ্যমী তরুণ আসছেন, যারা এগুলোতে সচেতনতার পরিচয় দিচ্ছেন। অধিকাংশই অবশ্য শহরকেন্দ্রিক; তবে আমরা মনে করি, জরিমানার পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর নিয়মিত রেস্তোরাঁ মালিকদের নিয়ে এসব বিষয়ে আলোচনা করলে অবস্থার উন্নতি হতো। কেবল আইন প্রয়োগ করে একটি সমাজকে সুশৃঙ্খল করা যায় না, সংস্কৃতি বদলানোরও প্রয়োজন রয়েছে। রেস্তোরাঁ ব্যবসায় কী কী থাকা প্রয়োজন, এ ধারণাই যদি মালিক ও ক্রেতার না থাকে, তাহলে আইনে যা-ই থাকুক না কেন, ভালো মানের রেস্তোরাঁ গড়ে উঠবে না, সেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত হবে না এবং নিয়মকানুন না-মানার প্রবণতাও থেকে যাবে। আমরা চাই, দেশের প্রতিটি রেস্তোরাঁ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার পরিবেশন করুক ও যথাযথ নিয়ম মেনে চলুক।