সুস্বাস্থ্য

রোগ থেকে দূরে রাখে স্বাস্থ্যকর খাবার

সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর খাবার। এ ধরনের খাবার অনেক দীর্ঘস্থায়ী অসংক্রামক ব্যাধি থেকে মানুষকে রক্ষা করে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার প্রভৃতি রোগ থেকে দূরে রাখে। বৈচিত্র্যময় খাবারের পাশাপাশি কম লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ কমিয়ে আনাই স্বাস্থ্যকর খাবারের বৈশিষ্ট। চিনি ও চর্বিমুক্ত খাবারও স্বাস্থ্যকর। বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের সমন্বয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে:
স প্রধান খাদ্য, যা হতে পারে শস্যজাতীয় খাবার। যেমন গম, বার্লি, রাই, ভুট্টা, ভাত, আলু প্রভৃতি
# ডাল, শিম
# ফল ও শাকসবজি
# মাংস, মাছ, ডিম ও দুধ।

স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কিছু সুপারিশ করেছে। দেখে নিন এগুলো:

মায়ের দুধ পান করছে এমন শিশু ও দুবছর বয়স পর্যন্ত শিশু
# জন্মের পরপরই শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। মায়ের দুধ তাকে পরিপূর্ণ পুষ্টি দেবে। দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ রাখবে। স্থূলতা ও অসংক্রামক রোগের মাত্রা কমিয়ে দেবে
# জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত তাকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। পরের ১৮ মাস অর্থাৎ দুবছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধের পাশাপাশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর পরিপূরক খাবার খাওয়ানো উচিত।

প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফল খেতে হবে
# ভিটামিন, মিনারেল, আঁশ, প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চমৎকার উৎস
এসব খাবার
# পাতে শাকসবজি ও ফলমূল থাকার অর্থ স্থূলতা, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও কয়েক ধরনের ক্যানসার থেকে
দূরে থাকা।

চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা
# চর্বি, তেল শক্তির উৎস। তবে এর মাত্রা কম হওয়া বাঞ্ছনীয়। অতিমাত্রায় এ জাতীয় খাবার, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য আহারের ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে
# মাখন, ঘি, নারকেল, পামঅয়েল প্রভৃতির পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল যেমন অলিভ, সয়া, সূর্যমুখী ও ভুট্টার তেল খেতে পারেন
# দৈনিক খাবারের তালিকায় যেন ৩০ শতাংশের বেশি চর্বি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
স্বল্পমাত্রায় চিনি
# দৈনন্দিন মোট খাবারে মাত্র ১০ শতাংশ চিনি থাকতে পারে। এ হার পাঁচ শতাংশে কমিয়ে আনতে পারলে আখেরে আপনারই লাভ
# কুকিজ, কেক, চকোলেটের পরিবর্তে তাজা ফল খেতে পারেন। এ অভ্যাসের ফলে চিনির মাত্রা কমে আসবে
# কোমল পানীয়, সোডা, প্যাকেটজাত ফলের রস এড়িয়ে চলতে হবে।

লবণ পরিহার করতে হবে
# পাঁচ ঘণ্টা লবণ না খেয়ে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা যায়। হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমানো যায়
# রান্না কিংবা খাবার প্রস্তুত করার সময় লবণের ব্যবহার কমিয়ে ফেলুন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অবলম্বনে রতন কুমার দাস

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..