মত-বিশ্লেষণ

রোজায় ডায়াবেটিক রোগীর প্রস্তুতি

ঝুঁকি কম যাদের: ১. যারা শুধু খাবার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ২. যারা মেটফরমিন, গ্লিটাজোনস কিংবা ইনক্রিটিন-জাতীয় ওষুধ খান। তবে যারা সালফোনাইল ইউরিয়া ও ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তাদের ঝুঁকি কিছুটা থাকে। ওষুধ ও ইনসুলিনের ধরন অনুযায়ী এর তারতম্য হয়।

ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিন: ক. রমজানের আগেই ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিন। অন্য সময়ের তুলনায় সাধারণত এ সময় মুখে খাওয়ার ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ কিছুটা কমিয়ে আনতে হয়। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনবারের ওষুধ একবার বা দুবারে পরিবর্তন করে আনুন।

খ. রমজানের আগে থেকে সকাল বা দুপুরের ওষুধ রাতে খাওয়ার অভ্যাস করুন। অর্থাৎ যারা মুখে খাওয়ার ওষুধ খান তারা সকালের ডোজটি ইফতারের শুরুতে এবং রাতের ডোজটি অর্ধেক পরিমাণে সাহরির আধা ঘণ্টা আগে খাবেন। গ. যারা দিনে এক বেলা ওষুধ খান, তারা ইফতারের আগে পরিমাণে একটু কম খাবেন। ঘ. ইনসুলিনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। অর্থাৎ সকালের ডোজটি ইফতারের আগে, রাতের ডোজটি কিছুটা কমিয়ে সাহরির আধা ঘণ্টা আগে। কতটা কমাবেন তা চিকিৎসক বলে দেবেন। ঙ. দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করে এ রকম কিছু ইনসুলিন এখন বাজারে পাওয়া যায়। এসব ইনসুলিন দিনে একবার নিলেই হয়। এতে হঠাৎ সুগার কমে যাওয়ার ভয়ও কম থাকে। রোজার সময় মুখে খাওয়ার ওষুধের ক্ষেত্রে এ রকম দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করা ওষুধ ব্যবহার কিছুটা নিরাপদ।

নিয়মিত সুগার পরীক্ষা করুন: ক. রোজার সময় রাতে, এমনকি দিনেও সুগার মাপুন, যাতে ওষুধের মাত্রা ঠিকভাবে সমন্বয় করা যায়। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

খ. সাহরির দুই ঘণ্টা পর এবং ইফতারের এক ঘণ্টা আগে রক্তের সুগার পরীক্ষা করুন। যদি সুগারের পরিমাণ কমে ৩.৯ মিলিমোল/লিটার হয়ে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে। ঘ. রোজায় যদি সুগারের মাত্রা ১৬.৭ মিলিমোল/লিটার বা তার বেশি হয়, তাহলে প্রস্রাবে কিটোন বডি পরীক্ষা করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে চামড়ার নিচে ইনসুলিন নেয়া যেতে পারে। ঙ. রোজা রাখা অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করা, এমনকি প্রয়োজন হলে ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নেয়া যেতে পারে। (চলবে)

অধ্যাপক ডা. ফরিদ উদ্দিন

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ডায়াবেটিস ও হরমোন বিভাগ

বিএসএমএমইউ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..