প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রোববার বিএসইসির নিজস্ব ভবন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নিজস্ব ভবন ও সুশিক্ষিত বিনিয়োগকারী গড়তে দেশব্যাপী ‘ফিন্যানসিয়াল লিটারেসি’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভবন ও এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি।

এর আগে ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরে বাংলা নগরে ১১ তলা (বেইজমেন্টসহ) বিশিষ্ট এ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, ফিন্যানসিয়াল লিটারেসি কর্মসূচি আওতায় বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট (বিএএসএম) প্রতিষ্ঠাসহ দেশব্যাপী তিন মেয়াদে বিনিয়োগ প্রশিক্ষণ দিতে গেজেট প্রকাশ করেছে বিএসইসি। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিনিয়োগ শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ) বিধিমালা, ২০১৬ নামে গেজেটটি প্রকাশ করা হয় গত ২৬ ডিসেম্বর।

এদিকে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণকে ঘিরে প্রত্যাশারও কমতি নেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। ২০১০ সালের ধসের পর ঊর্ধ্বমুখী বাজারে সরকারের পক্ষ থেকে আরও সুখবর আসবে, সে অপেক্ষায় আছেন বিনিয়োগকারীসহ বাজারসংশ্লিষ্টরা। সরকারের কোনো সুখবরে বাজারকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে এমনটাই মনে করছেন তারা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ই-৬ প্লটে এক বিঘা জমির ওপর নির্মিত ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৪৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বিএসইসির কার্যালয় মতিঝিলের দিলকুশায় জীবন বিমা ভবনে। এটি জীবন বিমা করপোরেশনের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া। ২০০৪ সালের জুনে আগারগাঁয়ে বিএসইসিকে এক বিঘা জমি দেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। বরাদ্দপত্রের শর্তানুযায়ী বিএসইসি জমির মূল্য বাবদ ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিএসইসির অনুকূলে ইজারা দলিল নিবন্ধন করে দেয় ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি। এরপরে ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী ভবনটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

ভবন নির্মাণের মেয়াদ ভিত্তিপ্রস্তরের দিন থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়।

এ প্রসঙ্গে সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। তবে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিদের সিডিউলের জন্য কিছুটা দেরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন বাজারের জন্য ইতিবাচক।’

জানা গেছে, এ ভবনে বিএসইসির কার্যালয় ছাড়াও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্য পরিচালনার জন্য এজলাস, একটি সম্মেলন কক্ষ ও সার্ভিল্যান্স কক্ষ স্থান পেয়েছে। আরও রয়েছে অত্যাধুনিক লাইব্রেরি, এনফোর্সমেন্টসহ কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ডে-কেয়ার সেন্টার, লিফটসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।

প্রধানমন্ত্রীর বিএসইসিতে আসা অবশ্যই একটি ভালো খবর উল্লেখ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ওপর পুঁজিবাজারের অনেক কিছু নির্ভর করবে। পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল। বর্তমান স্থিতিশীল বাজার অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে আরও ভালো সংবাদ শুনতে চায়।

বিনিয়োগকারীদের শিক্ষিত করতে ‘বিএএসএম’ নামে একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করবে বিএসইসি। একাডেমি বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক জনসাধারণকে বিনিয়োগ ও সিকিউরিটিজ মার্কেট সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেট কোর্স, ডিপ্লোমা, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স এবং কমিশন দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য কোর্স পরিচালনা ও সনদ দেবেন। একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘বোর্ড অব গভর্ন্যান্স’ গঠন করা হবে।

আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী কমিশন ১৭ সদস্যের একাডেমির বোর্ড গঠন করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যমান বোর্ডকে পুনর্গঠন করার ক্ষমতাও কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। একাডেমির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একাডেমির প্রধান এবং উপ-প্রধান নির্বাহী হবেন যথাক্রমে মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক। এ দুই পদে দায়িত্ব পালন করবেন বিএসইসির একজন নির্বাহী পরিচালক ও একজন পরিচালক। এছাড়া বোর্ডের অনুমোদনক্রমে একাডেমি প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করবে। তবে কমিশনের বিভিন্ন পদের কর্মচারীদের একাডেমিতে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

একাডেমির ব্যয় নির্বাহ বিষয়ে আইনের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, একাডেমির সব ব্যয় নির্বাহ করার জন্য ‘বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট তহবিল’ নামে একটি তহবিল গঠন করা হবে। তহবিলে কমিশন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, কোনো বৈদেশিক সংস্থা দ্বারা প্রদত্ত অনুদান বা অন্য কোনো খাত থেকে প্রাপ্ত অর্থ এবং একাডেমির আয় জমা হবে।

এর আগে পুঁজিবাজার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কোর্স পরিচালনার জন্য কমিশন ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) প্রতিষ্ঠা করেছিল।

দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা প্রসারের লক্ষে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বস্তবায়নে একাডেমিক এবং বিভাগ সমন্বিতভাবে, দূরশিক্ষণ ও উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এ লক্ষে একাডেমি এবং বিভাগ সমন্বিতভাবে বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, মূল্যায়ন ও পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এছাড়া অনলাইন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাঠদান এবং পরীক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন ও গ্রহণে একাডেমি এবং বিভাগ সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ লক্ষে একাডেমি এবং বিভাগ সমন্বিতভাবে ইলেকট্রনিক ও অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করবে এবং বিনিয়োগ শিক্ষাকে বিষয়বস্তু করে নাটিকা, বিজ্ঞাপন, প্রামাণ্যচিত্র, কার্টুন, কুইজ, বিতর্ক ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা ইত্যাদি আয়োজন, আয়োজনের উদ্যোগ এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষে একাডেমি এবং বিভাগ সমন্বিতভাবে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয়, পর্যায়ে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ পাঠ্যসূচিতে বিনিয়োগ শিক্ষা পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্তকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্ত কমিশন আদেশ দ্বারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সমন্বয়ে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করবে।

কমিশনের আদেশের বলে নির্ধারিত অন্যান্য মাধ্যমে শিক্ষা পরিচালিত হবে, যা একাডেমি এবং বিভাগ সমন্বি^তভাবে কমিশনের আদেশ অনুযায়ী রোড শো, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি অন্যান্য মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারের ব্যবস্থা করবে।