সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গাদের মাঝে সিম বিক্রি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে রক্ষা পেতে দু’বছরেরও বেশি সময় হলো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দেওয়া হলেও এখন নানা ধরনের জটিলতা সামনে আসছে। একাধিকবার তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে কক্সবাজার অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করেছে রোহিঙ্গারা। এখন দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি হতে পারে, এমন নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে তারা। তাদের হাতে এদেশের সিমসমৃদ্ধ মোবাইলও পৌঁছে গেছে, যা বৈধভাবে পাওয়া সম্ভব নয়। বিভিন্ন মহল ব্যাপারটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে তারা কীভাবে সিমসহ মোবাইল পেল?
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘রোহিঙ্গাদের মোবাইল সেবা বন্ধে বিটিআরসির নির্দেশ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সাত দিনের মধ্যে মোবাইল সেবা বন্ধের জন্য দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরদের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ বিষয়ে অপারেটরদের চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা ইতিবাচক। তবে এদেশের পরিচয়পত্র না থাকার পরও সিম কিনে কীভাবে তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে তা স্পষ্ট নয়। কারণ জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া সিম কেনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তারা কীভাবে সিম কিনতে পেরেছে, তা খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি অবৈধভাবে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো এবং জাতীয় পরিচয়পত্রও পেয়েছে অনেকে। এরই মধ্যে মোবাইলের বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গুরুত্ব বিবেচনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসুরক্ষার স্বার্থে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মোবাইল সুবিধা না দিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যাপকহারে সিম/রিম ব্যবহারের তথ্য মিলেছে। সেজন্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মোবাইল সুবিধাদি প্রদান না করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধনে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনে সংরক্ষিত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে আঙুলের ছাপ মেলানোর পর সিমের ‘বায়োমেট্রিক’ নিবন্ধন করা হয়। কিন্তু পরিচয়পত্র না থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের কাছে সিমসহ মোবাইল পৌঁছেছে, যাতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে সন্দেহ নেই। এর সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে আরও কৌশলী ও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..