দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

রোহিঙ্গারা বোঝা হয়ে উঠেছে: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার বিজ ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের বোঝা বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখন মিয়ানমারের উচিত তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া। গতকাল গণভবনে ইউকে অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) দুটি পৃথক প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। সূত্র: বাসস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি, কারণ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরাও একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম। সে সময়ে এক কোটি বাংলাদেশি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল।’
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখন রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এদের কারণে স্থানীয় মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ মানবিক কারণে ভোগান্তি মেনে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সফররত ইউকে কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ (সিএফওবি) ও ইউকে এপিপিজি অন পপুলেশন, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিপ্রোডাকটিভ হেল্থের প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
ইউকে অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) সভাপতি অ্যানি মেইন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। ইউকে এপিপিজি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের সফরের ওপর লেখা একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। জোর করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে আবারও প্রতিশ্রুতি দেন। দুই বছর আগে বাংলাদেশে তাদের সফরের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, সেই সময়ের তুলনায় এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ অনেক ভালো হয়েছে। বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটেন বাংলাদেশের উন্নয়নে অব্যাহতভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আরও গভীর থেকে গভীরতর হবে। ইউকে এপিপিজি অন পপুলেশন, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ হেলথের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গৃহীত পরিবার পরিকল্পনা নীতির প্রশংসা করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি এ নীতি গ্রহণ করেছিলেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, জন্ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু গৃহীত নীতিটি খুবই কার্যকর হয়েছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আরও বলেন, পরিবার পরিকল্পনা ইস্যুতে সাফল্যের কারণে এ-সংক্রান্ত যুক্তরাজ্যের অনেক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম আছে।
বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে তারা বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রশংসনীয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের স্বাধীনতা ও দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা আরও বলেন, জাতির জনক ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে তাঁর কাজ শুরু করেছিলেন। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশকে তাঁর কাক্সিক্ষত লক্ষ্যের দিকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এভাবে তিনি যখন দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে তিনি ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দেশের উন্নয়নে অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার গ্রামীণ এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ জনপদ ও গ্রামীণ জনমানুষের অবস্থার উন্নয়ন আমার প্রধান কাজ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১৯০৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০০৬ সালে এটা ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার। ২০০৬ সালে দেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন ছিল তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার মেগাওয়াটে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তার সরকার ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছিল।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতা দখল করে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে আবার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম চালু করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ১৮ হাজারের মতো কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপিত হয়েছে এবং এগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুরা এসব ক্লিনিকের প্রকৃত উপকারভোগী। শিক্ষা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু নারীদের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট উইনিংটন গিবসন।

সর্বশেষ..