সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের রেজুলেশন বাস্তবায়ন হোক

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে দেশটি থেকে বিতাড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আশ্রয় নেয়। মানবিক কারণে আমরা ওই উদ্বাস্তুদের অন্ন, বস্ত্র ও আহারের ব্যবস্থা করেছি। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে, এরপর বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে তাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ প্রথম থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শরণার্থী সমস্যার সমাধান ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিয়ে তত্ত্বাবধান করছে জাতিসংঘ।

রোহিঙ্গাসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আবারও জাতিসংঘ সোচ্চার হয়েছে। টানা চতুর্থবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে গ্রহণ করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন-সংক্রান্ত রেজুলেশন। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী প্রতিনিধির অফিস থেকে পাঠানো তথ্যে জানা যায়, সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে গত বুধবার বিপুল ভোটে চতুর্থবারের মতো রেজুলেশনটি গৃহীত হয়। ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে রেজুলেশনটি উত্থাপন করে। এতে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় ১৩১টি দেশ।

আমরা মনে করি, জাতিসংঘের ভূমিকায় মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ অন্যান্য সহিংসতার শিকার নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বিপুলসংখ্যক সদস্য রাষ্ট্রের শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও অকুণ্ঠ সমর্থনই প্রকাশ পেয়েছে।

দেশটির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় আমাদের বন্ধুপ্রতিম কোনো দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। তবে এ অর্থ এই নয় যে, মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দেশগুলো। বিশ্বাস করছি, গণহত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত হলে মিয়ানমার ও তাদের পক্ষাবলম্বনকারীদের নৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি কতটা নাজুক, তা বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে। জাতিসংঘ রেজুলেশনটিকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানবতার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। এবারে রেজুলেশনে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারকে আহ্বান নতুন মাত্রা পাবে। যেমন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানসহ সমস্যাটির মূল কারণ খুঁজে বের করা, উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

জাতিসংঘে টানা চতুর্থবার বড় ব্যবধানে নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার করার সুযোগ হয়েছে। নতুনভাবে সমর্থন পাওয়ার প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে। এ বার্তা দিতে হবে, ন্যায়-নৈতিকতা চর্চা না থাকলে আধুনিক সভ্য জগতে ‘একঘরে’ হয়ে থাকতে হবে। অপরাধ করলে নাগরিকদের আইনের আওতায় আনা যেতে পারে। অপরাধ প্রমাণ হলে কঠোর শাস্তি হবে। রাষ্ট্রদ্রোহী হলে মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। কিন্তু নির্বিচারে নির্যাতন, গণহত্যা, জš§স্থান থেকে বিতাড়নÑ মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন। আমরা বিভিন্নভাবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করছি। মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায় অবশ্য নিতে হবে মিয়ানমারকে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের প্রস্তাব বাস্তবায়নে তৎপরতা জোরদার করা হবে বলে প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..