প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রোহিঙ্গা না ফেরালে মিয়ানমারে সহযোগিতা স্থগিত করবে জার্মানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী ড. গ্রেড মুলার বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের দুর্দশা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ট্র্যাজেডিতে পরিণত হচ্ছে। এটি সিরিয়ার পর শরণার্থীদের জন্য দ্বিতীয় খারাপ অবস্থা’। বাংলাদেশে থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে ফিরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশে দুদিনের সফর শেষ করে গত বুধবার ঢাকা ত্যাগের আগে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা এবং তাদের স্বেচ্ছায় ফেরানোর ব্যাপারে মিয়ানমারের অবশ্যই কাজ করা উচিত। মুলার বলেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ট্র্যাজেডিতে পরিণত হচ্ছে। এটি সিরিয়ার পর শরণার্থীদের জন্য দ্বিতীয় খারাপ অবস্থা।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাগ্যের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এ বিষয়ে আরও সন্দেহাতীতভাবে কাজ করতে হবে। সে সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয়দের সমর্থনে জার্মানি তার উন্নয়ননীতির বিভিন্ন দিকগুলো ব্যবহার করবে বলেও জানান তিনি।

কুতুপালং শিবিরকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী আখ্যায়িত করে জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নমন্ত্রী বলেন, এখানে থাকা শরণার্থীদের অনেকেই ট্রমার (আতঙ্ক বা ভীতি) মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

দুদিনের সংক্ষিপ্ত সফরে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন মুলার। এ সময় জার্মান মন্ত্রীকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আরও চাপ দেওয়ারও আহ্বান জানান বাংলাদেশ সরকারপ্রধান।

একইদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠককালে জার্মানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য তার দেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) সাম্প্রতিক আদেশের পক্ষে পুরোপুরি সম্মতি জানান।