সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব মোড়লদের ভূমিকা কাম্য

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের মুখে রোহিঙ্গারা পালিয়ে এলে মানবিক বিবেচনায় তাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে আরও একবার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সবক্ষেত্রে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কক্সবাজার অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক, পর্যটন, আইন-শৃঙ্খলা ও পরিবেশের ক্ষেত্রে সমস্যা জটিল হচ্ছে, স্থানীয়রা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না করা গেলে তা কক্সবাজারসহ সমগ্র দেশে বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। বিশ্ব মোড়লদের এ সমস্যা সমাধানে বড় ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও হতাশাজনকভাবে দায়সারা অবস্থান তাদের। তারা কার্যকর ভূমিকা না রাখলে রোহিঙ্গা সংকট গুরুতর পর্যায়ে যাওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত: মার্কিন রাষ্ট্রদূত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য উল্লেখ করে খবরটিতে বলা হয়েছে, সব রোহিঙ্গার স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবর্তন চায় যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য মিয়ানমারের ওপর ক্রমাগত চাপ অব্যাহত রেখেছে তারা। মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অবশ্য এ ধরনের বক্তব্য আগেও এসেছে। তবে শুধু দায়সারা চাপ প্রয়োগে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে না বলে অনেকে মনে করছেন। এক্ষেত্রে তারা আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা।
রোহিঙ্গারা এদেশে আশ্রয় নিয়েছে দু’বছর পূর্ণ হলো। ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গাকে এভাবে আশ্রয় দিয়ে রাখা বাংলাদেশের পক্ষে অসম্ভব। তাদের ভরণ-পোষণ, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক কাজে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। শুরুতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এলেও তা কমতে শুরু করেছে। এছাড়া সরকারি হিসাবে ইতোমধ্যে তাদের জন্য আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সরকারকে দেশের স্বার্থের চেয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বেশি মনোযোগ দিতে হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে প্রত্যাবাসন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথেষ্ট উদ্যোগী হলেও মিয়ানমার চূড়ান্ত অসহযোগিতা করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতা ছাড়া সমস্যার সমাধান প্রায় অসম্ভব বলে আমরা মনে করি।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ মোড়ল দেশগুলো এবং জাতিসংঘের মতো বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থা ভূয়সী প্রশংসা করেছে বাংলাদেশের। এখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেও তাদের মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি তৈরি করবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারত, চীন ও রাশিয়ারও আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য। তাদের রাজি করাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন ও কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, আসিয়ানকেও আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

সর্বশেষ..