প্রচ্ছদ শেষ পাতা

রোহিঙ্গা সহায়তায় এনজিও ব্যয়ে স্বচ্ছতা নেই: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর ব্যয়ের হিসাবে ‘স্বচ্ছতার অভাব’ দেখতে পাচ্ছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এক গবেষণা প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার কাজে থাকা এনজিওগুলো নিজেদের পরিচালন ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করতে চায় না। যে হিসাব তারা দেয়, প্রকৃত ব্যয় তার চেয়ে বেশি।

গতকাল ঢাকায় টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বলপূর্ব বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের (রোহিঙ্গা) নাগরিকদের বাংলাদেশে অবস্থান: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জমান বলেন, ‘বেসরকারি অংশীজনদের তথ্য প্রদানে অনীহা আছে। তারা নিজেদের স্বচ্ছ বললেও তারা সেটা করছে না। জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থাগুলোর দেওয়া কর্মসূচি ব্যয়ের মধ্যে তাদের অনুদানে পরিচালিত এনজিওগুলোর পরিচালন ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ কমপক্ষে দুই হাজার ৩০৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে রোহিঙ্গাদের পেছনে। পরোক্ষ ব্যয় আরও অনেক বেশি। এছাড়াও রয়েছে আর্থসামাজিক, পরিবেশ ও রাজনৈতিক সংকট।’

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ধীরে ধীরে কমে যাওয়ায় মানবিক সহায়তা অনুদান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে, ফলে খাতভিত্তিক বিভিন্ন সহায়তার অপ্রতুলতা দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের ওপর আর্থিক ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গ টেনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার পরেও যারা মিয়ানমারে এ নিধন প্রতিকারের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়নি তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। এখানে অনেকের স্বার্থ রয়েছে। আমরা সবসময় নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলি। কিন্তু এবারের এ সংকট আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। জাতিসংঘের দফতরের কাছে প্রতিবেদন ছিল। তাদের স্পন্সর করা প্রতিবেদনে এ জাতিগত নিধন যে হতে পারে এবং প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে বলা হয়েছিল। কিন্তু সে প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।’

টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের যে সংস্থাগুলো কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র্রে কাজ করছে, তাদের মধ্যে ইউএন-উইম্যানের পরিচালন ব্যয় সবচেয়ে বেশি। যে টাকা তারা সেখানে খরচ করছে, তার ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে পরিচালন বাবদ। বাকি ৬৭ দশমিক ৫০ শতাংশ অর্থ মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে খরচ করছে তারা। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে ইউনিসেফের পরিচালন ব্যয় সবচেয়ে কম, তাদের মোট ব্যয়ের তিন শতাংশ। বাকি ৯৭ শতাংশ টাকাই তারা কর্মসূচিতে ব্যয় করে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..