প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

লংকাবাংলার শেয়ারে বাজারে লঙ্কাকাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারদর বেড়েই চলছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেডের। প্রতিদিন দর বাড়ছে ২ থেকে ৪ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর গত তিন মাসে শতভাগের বেশি দর বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা এটাকে অস্বাভাবিক মনে করছেন। অনেকেই বলছেন, লংকাবাংলা শেয়ারবাজারে লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বাজারের স্বাভাবিক গতি বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এ কোম্পানির শেয়ার। লংকাবাংলার এ অস্বাভাবিক উত্থানে বিনিয়োগকারীরা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ২২ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত ২৫ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৫১ টাকা ৪০ পয়সা। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার দিনশেষে শেয়ারদর দাঁড়ায় ৬২ টাকা ৮০ পয়সায়। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২২ দশমিক ১৭ শতাংশ। আর তিন মাসে তা বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

এদিকে কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ার পেছনে ‘কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই’ বলে দাবি করছেন লংকাবাংলার শীর্ষ নির্বাহীরা। তাদের মতে, কোম্পানির প্রবৃদ্ধি ভালো হওয়ায় পুঁজিবাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। ফলে শেয়ারের দাম বাড়তে পারে।

এ প্রসঙ্গে লংকাবাংলার কোম্পানি সচিব মোস্তফা কামাল শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ার ক্ষেত্রে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। কেউ বাড়াচ্ছে কি না, তা-ও আমাদের জানা নেই। তবে বাজারে কোম্পানিটির চাহিদা রয়েছে এবং  ব্যবসায়িকভাবে কোম্পানিটি ভালো করছে।’

এদিকে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদায়ী হিসাববছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) এবং ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, শেয়ারদর বাড়বে এটা ইতিবাচক। কিন্তু এ তথ্যকে পুঁজি করে কোনো মহল কারসাজি যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠকানোর সুযোগ না পায়, সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে।

মোস্তফা কামাল জানান, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ সালের জন্য কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ১৫ শতাংশ ক্যাশ এবং ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এ সময়ে কোম্পানির ইপিএস দাঁড়ায় দুই টাকা ৮৭ পয়সা, শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ১৬ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ২ পয়সায়, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৫৩ পয়সা, ২২ টাকা ৬৩ পয়সা এবং ১০ টাকা ৭২ পয়সায়। সেই হিসাবে কোম্পানির ইপিএস বেড়েছে ৮৮ শতাংশ।

এছাড়া কোম্পানিটি আলোচিত বছরের ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি। তার পর থেকে এর শেয়ারদর বেড়েছে পাঁচ টাকা ৪০ পয়সা বা ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এছাড়া কোম্পানির পক্ষ থেকে বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা করা হয় ৫ ফেব্রুয়ারি এবং তার পর থেকে এর দর বেড়েছে ১০ টাকা বা ২১ দশমিক ২৮ শতাংশ। একইভাবে গত বছরের নভেম্বর থেকে কোম্পানির শেয়ারদর টানা বাড়তে থাকে। নভেম্বরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে ৩০ টাকা বা ১১১ শতাংশ।

বিদায়ী সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির লেনদেন হয়েছে ৩১৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার শেয়ারটির দর দুই টাকা ৭০ পয়সা বা ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়েছে। এদিন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৬২ টাকা ৮০ পয়সা দরে লেনদেন হয়।

এদিকে ২০১৬ সালের অক্টোবরে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ রাইট শেয়ার ও সেকেন্ড নন-কনভারটেবল জিরো কুপন বন্ড ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেয়। কোম্পানিটি ২:১ অনুপাতে অর্থাৎ দুটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি রাইট শেয়ারের মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। লংকাবাংলা ফাইন্যান্স বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে রাইট শেয়ার ও বন্ড ইস্যু করতে পারবে।

‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৬ সালে। লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের মোট শেয়ারের ৩৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে যথাক্রমে ৩১ দশমিক ৮১ ও ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বাকি ২৯ দশমিক ৬০ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে।