সম্পাদকীয়

লকডাউনে জরুরি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করুন

দেশের বিভিন্ন জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েছে। বিপরীতে রাজধানী ঢাকায় সংক্রমণ ও মৃত্যু আগের তুলনায় কম। এ অবস্থায় রাজধানীকে বিচ্ছিন্ন রাখতে সোমবার অনেকটা আকস্মিকভাবে আশপাশের চারটিসহ সাত জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা কার্যকর হয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে। 

হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত আসায় রাজধানীবাসীর মধ্যে যারা নানা কাজে ঢাকার বাইরে গেছেন, আবার বাইরের জেলাগুলো থেকে যারা ঢাকায় এসেছেন, তাদের নিজ বাসস্থান-গন্তব্যে ফেরা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা সাত জেলার মধ্যে মানিকগঞ্জের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর যানবাহন চলাচল করে। আর নারায়ণগঞ্জের সীমানার ওপর দিয়ে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলের গাড়ি চলাচল করে। গাজীপুরের ওপর দিয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের গাড়ি চলাচল করে। আর মুন্সীগঞ্জের ওপর দিয়েও চলে বিভিন্ন জেলার গাড়ি।

গতকাল শেয়ার বিজের ‘হঠাৎ বাস-লঞ্চ বন্ধের ঘোষণায় দুর্ভোগে যাত্রীরা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে পাঠকরা সাধারণ মানুষের কষ্ট-বিড়ম্বনার কথা জেনেছেন। আমরা মনে করি, কর্তৃপক্ষ একটু কুশলী হলে এ বিড়ম্বনা এড়ানো যেত। কভিড সংক্রমণ এড়াতে লকডাউনের আপাতত বিকল্প নেই। কিন্তু মানুষের কষ্টও বিবেচনায় নেয়া উচিত। যে সাত জেলায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সেখানে যান না থামিয়ে আটকাপড়া মানুষকে গন্তব্যে ফিরে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দেখা গেছে, মাস্ক না পরে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কেউ উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়াচ্ছে আর খেটে খাওয়া কর্মজীবীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন; এটি ন্যায়সংগত নয়। যারা অকারণে ঘোরাঘুরি করছে, তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা করা হলে, এমনিতেই অবাধ চলাচল অনেক কমে যেত।

পুলিশ যাদের আটকাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই বলছে অসুস্থ। ব্যতিক্রম ছাড়া এ দাবি অবশ্য সত্য বলেই প্রতীয়মান। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিকেন্দ্রীকরণ হলে হয়তো স্বাস্থ্যসেবার জন্য রাজধানীতে আসতে হতো না। আকস্মিক বিধিনিষেধে ঢাকার বাইরে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় মানুষকে। অনেকেই বলছেন, দূরপাল্লার বাস চলাচলে একটু সময় দেয়া যেত। এ বাসগুলো তো পথিমধ্যে যাত্রী ওঠানামা করে না, থামেও না। 

সব মিলিয়ে এক দিন, দু’দিন নয়, মোট ৯ দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল রাজধানী। ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তারপর সময় দীর্ঘায়িত করার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছাড়েনি। কী পরিমাণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন, সে সংখ্যা মোটেও কম নয়। করোনাকালে কয়েক দফা বিধিনিষেধ জারি করা হয়। এতে বন্ধ হয়ে যায় দূরপাল্লার বাস ও লঞ্চ চলাচল। গত ২৪ মে থেকে বাস ও লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন পরিবহন শ্রমিকরা। এখন আবার বন্ধ হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। যান চলাচল বন্ধ হলে যাদের জীবিকার ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে, তাদের বড় অংশই গরিব কর্মজীবী; এদের কষ্টের কথা বিবেচনায় নিয়ে লকডাউনে জরুরি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করুন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..