খবর দিনের খবর

লকডাউনে শিল্পকারখানা খুললে ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহামারি নিয়ন্ত্রণের লকডাউনের মধ্যে কোনো শিল্পকারখানা খুললে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। ঈদপরবর্তী কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিন গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ হুশিয়ারি দেন।

কভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর আগে কয়েক দফা লকডাউনে শিল্পকারখানা খোলা রাখা হয়েছিল। কিন্তু মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় গত ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে শিল্পকারখানাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যেও কিছু শিল্পকারখানা খোলা রাখা হচ্ছে বলে খবর মিলছে।

তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না প্রশ্ন করা হলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কারখানা খুলে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছি।’ সংক্রমণ যে গতিতে ছড়াচ্ছে, তাতে এখন কঠোর বিধিনিষেধের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। কোরবানির পশুর চামড়া-সংশ্লিষ্ট খাত, খাদ্যপণ্য এবং কভিড-১৯ প্রতিরোধে পণ্য ও ওষুধ উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘কঠোর’ বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রয়েছে।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকরা কারখানা খোলার দেনদরবার করলেও তাদের হতাশ করেছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু গার্মেন্ট ও রপ্তানিমুখী কলকারখানাগুলো বন্ধ রেখেছি, লাখ লাখ শ্রমিক আসা-যাওয়া করত, সেগুলো কমেছে। এগুলো ছাড়াও আরও বিভিন্ন কারণ আছে, যে কারণে মানুষ বাইরে আসছে। অযৌক্তিক কারণে কেউ বের হলে কিন্তু আইনের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’ এছাড়া হাসপাতাল থেকে শুরু করে জরুরি সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষ বাধাহীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাস্তায় চেকপোস্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন জানতে চাচ্ছেন, কী কারণে রাস্তায় নেমেছেন, তখন তারা বলছেনÑআমার চাকরিতে যেতে হচ্ছে। আসলে এটার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করছি। তারা যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম বলেছে, সেগুলো চেক করার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে শিল্পকারখানা খোলার প্রমাণ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। এই বিধিনিষেধ থাকবে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত। খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত মিল-কারখানা, কোরবানির পশুর চামড়া পরিবহন, সংরক্ষণ এবং ওষুধ শিল্পকারখানা বাদে সব শিল্পকারখানা, সরকারি-বেসরকারি অফিস বিধিনিষেধে বন্ধ থাকার আদেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভার বৈঠকে করোনা যে পরিস্থিতিতে ছড়িয়ে গেছে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা কঠিনভাবেই তো প্রজ্ঞাপন জারি করেছি। এ ব্রেকটা খুব দরকার।’

ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের সংক্রমণ কমানোর জন্য ব্রেক প্রয়োজন। ব্রেকটার জন্য এটাই উপযুক্ত কৌশল, সেটি হচ্ছে বিধিনিষেধ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..