সারা বাংলা

লকডাউন প্রত্যাহার চেয়ে খনি শ্রমিকদের আন্দোলন

প্রতিনিধি, দিনাজপুর: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে চলমান লকডাউন প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবি পূরণে আন্দোলনে নেমেছেন খনির শ্রমিকরা।

গতকাল রোববার সকাল থেকে তারা কর্মবিরতি করে খনির ভেতর ও বাইরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে খনি অভ্যন্তরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি ও পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন।

বৈঠকে অংশ নেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী কামরুজ্জামান মহাব্যবস্থাপক (মাইনিং) সাইফুল ইসলাম ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আমজাদ হোসেন, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসিত কায়সার রিয়াদ। পার্বতীপুর উপজেলা চেয়ারম্যন হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা বৈঠকে সারাদেশের মতো বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির লকডাউন তুলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খনি পরিচালনার অনুমতি চেয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

লকডাউন প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে চলমান লকডাউন প্রত্যাহার করে খনিতে নিয়োজিত সব শ্রমিককে টিকা দিয়ে কর্মস্থলে যোগদান করাতে হবে। খনির প্রধান গেট উš§ুক্ত রেখে সব শ্রমিকের প্রফিট বোনাসসহ বকেয়া বেতন, ভাতা ও উৎসব ভাতা দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নামে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

শ্রমিক নেতা নুর ইসলাম বলেন, লকডাউনের অজুহাতে খনি কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ১০০ শ্রমিকের অধিকাংশকে দীর্ঘদিন বসিয়ে রেখেছে। অনেক শ্রমিকের বাড়িতে খাবার নেই। তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে লকডাউন প্রত্যাহার করে শ্রমিকদের কাজে ফিরিয়ে আনতে হবে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ সারাদেশের সঙ্গে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে খনিটি লকডাউন করা হয়। এরপর ওই বছরের আগস্টে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব সরকারি, আধা সরকারি অফিস আদালত খুলে দেয়া হলেও, খনির লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়নি। লকডাউন বজায় রেখে কয়েক শ্রমিক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে করে খনির অভ্যন্তরে আটকা পড়েছে খনিতে কর্মরত ৫০০ শ্রমিক ও সাড়ে ৩০০ কর্মকর্তা-কমর্চারী। এর মধ্যে খনির বড় বড় কর্মকর্তারা খনির বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পেলেও, সেই সুযোগ পাননি খনির নি¤œস্তরের কর্মকর্তা-কমর্চারীরা। ফলে দীর্ঘ এক বছর থেকে তারা পরিবার-পরিজন ছাড়া খনির অভ্যন্তরে একাকিত্ব জীবনযাপন করছেন। অন্যদিকে  যারা পরিবার নিয়ে খনির আবাসিক ভবনে বসবাস করছেন তাদের ছেলেমেয়েও বাইরে বের হতে পারেনি। তারাও এক প্রকার বন্দি জীবনযাপন করছেন বলে তারা জানান।

খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনা প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি ও সিএমসির আপত্তির কারণে মন্ত্রণালয়ের নির্র্দেশে খনিটির লকডাউন তুলে নেয়া হয়নি। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে লকডাউন প্রত্যাহার করে সরকারি নিয়মানুসারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খনিটি পরিচালনা করা হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..