সারা বাংলা

লক্ষ্মীপুরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: ঈদুল আজহা সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম নিয়ে শঙ্কিত বিক্রেতারা। এ বছর হাটগুলোয় কোরবানির গরু-ছাগলের পাশাপাশি মহিষের সরবরাহও বেড়েছে। তবে হাটগুলোয় জাল টাকা নির্ণয়ের কোনো প্রস্তুতি দেখা যায়নি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৩২টি কোরবানির পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২টি, রায়পুর উপজেলায় পাঁচটি, রামগঞ্জ উপজেলায় তিনটি, কমলনগর উপজেলায় ছয়টি ও রামগতি উপজেলায় রয়েছে ছয়টি হাট। এ বছর জেলায় দুই হাজার ৪৩৯টি খামারে ৭৮ হাজার গরু দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করেছেন খামারিরা।
পৌর শহরের গরু বাজারের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহিন আহম্মেদ জানান, গরু সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমতির দিকে বলে মনে করছেন অনেকে। আর সেই শঙ্কা নিয়ে গরুর দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যাপারীরা। হাটে গরু রাখার নির্দিষ্ট জায়গা পূরণ হয়ে গেছে। ফলে আশেপাশের সড়ক ও খালি জায়গায় কোরবানির পশু রাখছেন ব্যাপারীরা। বেশি গরু ওঠায় ইজারাদাররা খুশি থাকলেও ব্যাপারীরা নেই স্বস্তিতে।
জেলার কোরবানির পশুর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৩২টি পশুর হাটের ইজারা অনুমতি থাকলেও জেলায় অস্থায়ীভাবে শতাধিক হাট বসেছে। প্রতিটি হাটে কোরবানি ও বিক্রির উপযোগী গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ নিয়ে খামারি, ব্যাপারী ও বিক্রেতারা ভিড় করছেন। মুনাফার আশায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চড়া দামে গরু কিনে এনে আশানুরূপ লাভে বিক্রি করতে পারছেন না বলে জানান ব্যাপারীরা। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, কোরবানির পশুও তত বেশি বাড়ছে। বিভিন্ন গ্রামের পশু পালনকারীরা তাদের পালন করা উন্নত জাতের পশু নিজ এলাকায় বিক্রি না করে বেশি লাভের আশায় জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।
দিনাজপুর থেকে গরু ব্যবসায়ী জাকির মিয়া এক ট্রাক কোরবানির পশু নিয়ে লক্ষ্মীপুর এসেছেন। তিনি জানান, মুনাফা তো দূরে থাক, যে টাকা দিয়ে কৃষকের কাছে গরু কিনেছেন, সে টাকা তুলতে পারবেন কি না সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন। আড়াই লাখ টাকা দামে কৃষকের কাছ থেকে যে গরু কিনেছেন, এখানে ক্রেতারা তার দাম হাঁকাচ্ছেন এক লাখ টাকা।
পৌর পশুর হাট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন শাহী জানান, জেলার সবচেয়ে বড় কোরবানির হাট পৌর পশুরহাটে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ রাখা হয়েছে। কোরবানির পশু কেনাবেচা এখন কম হলেও সপ্তাহের শেষ দিকে বাড়বে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. যোবায়ের হোসেন জানান, সব পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। এ বছর চাহিদার তুলনায় কোরবানির পশুর মজুদ বেশি রয়েছে বলেও তিনি জানান।
পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, কোরবানির ঈদ ঘিরে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পশুর হাট, লঞ্চ ও ফেরি ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে সর্বস্তরের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। রাস্তায় পশু পরিবহনে অপ্রীতিকর ঘটনা রোধের জন্য হাইওয়ে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সর্বশেষ..