সারা বাংলা

লক্ষ্মীপুরে পাটের দাম নিয়ে শঙ্কায় চাষি

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: পাটের কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ায় কয়েক বছর থেকে লক্ষ্মীপুরের পাটচাষিকে লোকসান গুনতে হয়েছে। ফলে এ বছর অনেকেই পাট আবাদ করেননি। কাক্সিক্ষত দাম, জাগ দেওয়ার স্থান সংকট ও বাজারে চাহিদা কম থাকায় প্রতিবছর এ অঞ্চলে পাটের আবাদ কমছে। তাই এবারও চাষিরা পাটের দাম নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চার জাতের পাট ৮০ হেক্টর জমিতে আবাদ করে ১৩০ টন পাট উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে দেশি পাট ৫৪ টন, তোষা ১৬ টন, মেস্তা ৩০ টন ও কেনাক পাট ৩০ টন উৎপাদন হয়েছে।
পাটজাত পণ্য ব্যবহার বাড়াতে সরকারের নানা পদক্ষেপ পাটচাষির মনে আশা জাগালেও উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় দাম কম হওয়ায় পাট আবাদে কৃষকের আগ্রহ কমছে। পাট চাষ করে লোকসান গুনতে গুনতে ‘সোনালি আঁশ’খ্যাত পাট কৃষকের গলার ফাঁসে পরিণত হয়েছে। ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে শঙ্কায় পাটচাষি ও আড়তদাররা।
সদর উপজেলার কয়েকজন পাটচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ মৌসুমে চাষিরা পাট কেটে তা বিভিন্ন জলাশয়, নালা, খালবিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, পাটখড়ি শুকানো এবং হাট-বাজারে বিক্রিসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু পাটের কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ায় এবারও তারা শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ গ্রামের পাটচাষি আবু তাহের জানান, প্রতি বছর পাট আবাদ করে লোকসান হওয়ায় এ বছর আবাদের পরিমাণ কমিয়েছি। বাজারে পাটের আমদানি শুরু হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। প্রতি মণ পাট বাজারে ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সদর উপজেলার মান্দারী বাজারের পাটের আড়তদার ইসমাইল পাটোয়ারী জানান, দিন দিন পাটের চাহিদা কমে যাওয়ায় দামও কমে যাচ্ছে। মৌসুমের শুরুতেই পাটচাষি পাট বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছে না। পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার কমে যাওয়ায় এবং পাটকল মালিকদের চাহিদা কম থাকায় এ ব্যবসা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে পাটচাষির পাশাপাশি আড়তদাররাও এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, ধান, সয়াবিন, আলুসহ অন্য ফসলের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক। তাই প্রতি বছরই পাটের আবাদ কমে যাচ্ছে। এছাড়া পাটজাত পণ্যের ব্যবহার কমে পলিথিনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অন্যতম রফতানি আয়ের উৎস পাটের আবাদ কমে যাচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..