প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

লক্ষ্মীপুরে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় লক্ষ্মীপুরে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আক্রান্ত রোগীর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। গত এক সপ্তাহে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রায় এক হাজারেরও বেশি শিশু ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে ভর্তি হচ্ছে প্রায় ১০০ শিশু। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চিত্রও একই।

গত মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আউটডোরে শিশু রোগীর চাপ চোখে পড়ার মতো। বেশিরভাগ রোগীই ছিল ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বড়ালিয়া গ্রামের সাহাব উদ্দিন জানান, তার ছয় বছরের ছেলে দুদিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। চিকিৎসা নিতে তিনি সদর হাসপাতালে এসেছেন। কিন্তু হাসপাতালে রোগী আর স্বজনদের চাপে পা ফেলার মতো অবস্থা নেই। তবু দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন ছেলের চিকিৎসার জন্য।

এ সময় ওই হাসপাতালে আসা একাধিক রোগী জানান, ঠাণ্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। গত দুদিন ধরে হাসপাতালে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে হাসপাতালে কোনো শয্যা খালি না থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে।

শিশু ওয়ার্ডগুলোয় গিয়ে দেখা যায়, প্রতি বেডে তিন থেকে চার শিশুকে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনেককেই মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এতে করে শিশুরা পড়ছে আরও ভোগান্তিতে।

জেলা বেসরকারি প্যাথলজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, প্রতি বেডে একটি শিশুর চিকিৎসা নেয়ার কথা থাকলেও চিকিৎসা নিচ্ছে তিনটি শিশু। এছাড়া বেড সংকুলন না হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা। বেডের তুলনায় রোগী ভর্তি হচ্ছে ১০ গুণ বেশি।

সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ইছমাইল হাসান জানান, ঠাণ্ডার কারণে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। এটি সামনে আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। এ সময় শিশুদের গরম কাপড় পরিধান ও হালকা গরম পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন এ চিকিৎসক।

সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গফ্ফার জানান, প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছে সাত-আটশ রোগী। এর মধ্যে বেশিরভাগই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু। জেলা সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ১৫টি বেড থাকলেও চিকিৎসকরা তাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে জানালেন তিনি।