সারা বাংলা

লক্ষ্মীপুরে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে বাধা

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর সদরের চরশাহী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় গত বছরের জানুয়ারি মাসে। অথচ গত এক বছরে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন জমির কিছু অংশ নিজেদের দাবি করে ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় স্থানীয় শাহজাহান মিয়াজী ও তার ভাইয়েরা। এতে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

এ বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন থেকে ঝরাজীর্ণ থাকায় ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তা ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু পাঠদানের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এক বছরের চুক্তিতে স্থানীয় একটি বসবাসকৃত বাড়ির দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে শুরু করা হয়েছিল বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের পাঠদান পরিবেশ স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে পারছে না। চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।

জানা যায়, শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ। স্থানীয় শাহজাহান মিয়াজী ও তার ভাইয়েরা বিদ্যালয়ের জমির কিছু অংশ নিজেদের দাবি করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে বন্ধ করে দেন নতুন ভবন নির্মাণকাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আর এর জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকেও দুষলেন স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানালেন, শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। তাছাড়া সকাল ১০টা থেকে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে বেলা ৩টার মধ্যেই শেষ করে ভাড়া দুটি কক্ষ বাড়ির মালিককে বুঝিয়ে দিতে হয়।

দক্ষিণ-পূর্ব সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইরিন আক্তার জানালেন, ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীরা পাঠদানে উৎসাহ হারাচ্ছেন। নতুন বছরে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে অভিভাবকরা তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে করে কমে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাছিনা আক্তার জানালেন, কয়েকদিন আগে প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহায়তায় বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। খুব দ্রুত ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করবেন, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..