সারা বাংলা

লক্ষ্মীপুরে ভোগান্তি কমেনি কর্মস্থলমুখী মানুষের

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষের ভোগান্তি এখনও কমেনি। ছুটি শেষ হলেও ভাড়ার দ্বিগুণ পয়সা দিয়েও কর্মস্থলে ফেরার বাসের টিকিট পাচ্ছেন না তারা। ফলে এখনও কর্মস্থলমুখী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সপ্তাহের শুরুতেই গতকাল রোববার লক্ষ্মীপুর শহরের বাসস্ট্যান্ডগুলোয় দেখা গেছে শহরমুখী কর্মজীবী মানুষের ভিড়। আর যাত্রীবাহী বাসের টিকিট কাউন্টারগুলো ছিল যাত্রীদের ব্যাগের দখলে। কাক্সিক্ষত টিকিট না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই ট্রাক কিংবা ফিটনেসবিহীন বাসে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পুরোনো ও চলাচলের অযোগ্য বাসে রং করে ছাদ, পাটাতন ও ইঞ্জিন কভারে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহন করছেন।
কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আগে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকাগামী জননী ও জোনাকী বাসের টিকিটের দাম ছিল ৩০০ টাকা, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৭০০ টাকায়। এছাড়া চট্টগ্রামগামী শাহী ও জোনাকী বাসের টিকিট ২০০-২৫০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাস মালিক সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় প্রায় শতাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করে। ঈদ উপলক্ষে কর্মজীবীরা স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে লক্ষ্মীপুরে এলেও রাস্তার নানা সমস্যার কারণে সময়মতো বাস না আসায় তাদের পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে।
রায়পুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জোনাকী এক্সপ্রেসের যাত্রী আবদুস সালাম জানান, গত দু’দিন টিকিট না পেয়ে বেশি দামে কালোবাজারে টিকিট সংগ্রহ করে ঢাকা যেতে হচ্ছে। আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস হলেও সিটের অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বাসে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার বেহাল দশার কারণে নোয়াখালীর চৌমহনী চৌরাস্তা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত যেতে দুই-আড়াই ঘণ্টা বেশি সময় লেগে যায়।
সদর উপজেলার মান্দারী, জকসিন ও বটতলি বাসস্ট্যান্ডে টিকিটের জন্য অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী জানান, ভোর থেকে বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষায় আছেন। যাত্রীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেলেও এখন পর্যন্ত কোনো বাসের সিটের টিকিট পাননি। শহরের লোকাল আনন্দ বাস, যমুনা ক্ল্যাসিক ছাড়াও ফিটনেসবিহীন বেনামি বাসগুলো দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করে যাত্রী নিয়ে শহরের দিকে যাচ্ছে।
পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ এলাকার ফার্মাসি ব্যবসায়ী সজীব হোসেন জানান, ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা থেকে ইমামি এক্সপ্রেসে ৭০০ টাকা ভাড়া দিয়ে বাড়িতে আসেন। ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসতে দেড় ঘণ্টা লাগলেও রাস্তার বেহাল দশায় কুমিল্লা থেকে চৌমুহনী চৌরাস্তা আসতে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সোহেল জানান, ঈদের ছুটিতে এবার অধিকাংশ চাকুরীজীবী রায়পুর হয়ে চাঁদপুর দিয়ে লঞ্চে ঢাকা যান। প্রতিটি সিএনজি লক্ষ্মীপুর থেকে চাঁদপুর লঞ্চঘাট যেতে এক হাজার টাকা করে নেয় বলেও জানান তিনি।
ভাড়া বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে কয়েকটি কাউন্টার মালিক জানান, লক্ষ্মীপুরের বাস কাউন্টারগুলোতে নির্দিষ্ট দামে অগ্রিম ফিরতি টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত হলেও যাত্রী বৃদ্ধির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায়। ঈদে শহর থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো পথে পথে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এসব কারণে সময়মতো যেমন বাস ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি ঈদের পরে শহর থেকে বাসগুলোকে যাত্রী ছাড়াই ফিরে আসতে হয়। তাই শহরে যেতে ভাড়া একটু বেশিই নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, বেশি দাম নেওয়ার জন্যই কৌশলে কাউন্টারের লোকজন কালোবাজারে টিকিট ছেড়ে দেয়।

সর্বশেষ..