সারা বাংলা

লক্ষ্মীপুরে মাত্র ১২.৯১% বিদেশফেরত কোয়ারেন্টাইনে

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: গত ২২ দিনে তিন হাজার ৬৬২ জন প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে জেলায় এসেছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৪৭৩ জন প্রবাসীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ১ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত এ পরিসংখ্যান জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। কোয়ারেন্টাইনের বাইরে থাকা বাদবাকি তিন হাজারেরও বেশি লোকের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা নেই প্রশাসনের। তবে তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে জেলার পাঁচটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিদেশফেরত ব্যক্তিদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে একটি অনুসন্ধানী কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে অধিকাংশ বিদেশফেরত যুবক নিয়মনীতি না মেনে স্বাভাবিকভাবে এলাকায় চলাফেরা করছে। সরকারের নির্দেশনাও মানছেন না তারা। এতে করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন এ অঞ্চলের কয়েক লাখ বাসিন্দা।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) বনি আমিন জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালদের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন প্রবাসীর কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশফেরত ৩২০ জন প্রবাসীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে করোনা সচেতনতায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, কাশি রোগীদের জন্য বহির্বিভাগে সম্পূর্ণ আলাদা টিকিট কাউন্টার করা হয়েছে। এসব রোগীদের জন্য আলাদা কক্ষে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তিন ফুট দূরে বসিয়ে রোগীদের ইতিহাস, অবস্থা জানছেন ও পরামর্শ দিচ্ছেন। বিদেশফেরত লোকেরা জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে আসার পর সন্দেহ হলে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরে কোয়ারেন্টাইনে থাকা কোনো ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ পাওয়া যায়নি। তারা সবাই সুস্থ আছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা সদরসহ পাঁচটি হাসপাতালে ১০০টি বেড ও তিনটি নবনির্মিত ভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জন আবদুল গফ্ফার জানান, বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে পরিবার ও দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এ জেলায় গত চার সপ্তাহে তিন হাজার ৬৬২ জন প্রবাসী প্রবেশ করেছেন। তাদের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার এএইচএম কামরুজ্জামান বলেন, ছয় থানার ওসিদের তাদের আওতাধীন এলাকাগুলোয় বিদেশফেরত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসাধারণকে করোনা মোকাবিলায় সতর্ক থাকার জন্য প্রচারপত্র ও মাইকিং করে যাচ্ছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, পাঁচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে সব সভা, সমাবেশ, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..