শিল্প-বাণিজ্য

লক্ষ্মীপুরে সাড়ে তিনশ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদন

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদন হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও অনুকূল আবহাওয়া থাকায় দিন দিন এ অঞ্চলে বাড়ছে সুপারি উৎপাদন। এখানকার উৎপাদিত সুপারির গুণগতমান ভালো হওয়ায় তা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় তা সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন চাষি। তাই মৌসুমের শুরুতেই সুপারি বিকিকিনিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সুপারি চাষি, আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা।
এবছর এ অঞ্চলের উৎপাদিত সুপারি থেকে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা আয় হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তবে এ অঞ্চলে সুপারিভিত্তিক শিল্প-কারখানা ও প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি লাভবান হতেন সুপারি চাষিরাও, এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য মতে, চলতি বছর জেলার পাঁচটি উপজেলায় ছয় হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। যা থেকে উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৫৫০ টন সুপারি। যার বাজার মূল্য ৩৫০ কোটি টাকা।
লক্ষ্মীপুরে সুপারির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার হিসেবে রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজার বিখ্যাত। সপ্তাহে দু’দিন এ বাজারে প্রায় কোটি টাকার সুপারি বেনাবেচা হয়। এছাড়াও সদর উপজেলার দালাল বাজার, রাখালিয়া বাজার, মান্দারী বাজার, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট বাজারসহ জেলার ছোট-বড় প্রায় সবকয়টি বাজারে সুপারি কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সুপারি চাষি, পাইকারি ও আড়তদাররা। তবে গত বছরের তুলনায় বাজার দর ভালো থাকায় খুশি এ পেশায় জড়িতরা।
সদর উপজেলার লাহারকান্দি গ্রামের সুপারি চাষি মিলন জানান, সুপারি আবাদে খরচ কম এবং রোগ বালাই কম। তিনি বাড়ির পাশে পাঁচ গণ্ডা পতিত জমিতে সুপারি বাগান করেছেন। মৌসুমের শুরুতেই প্রতি পণ (২০ গণ্ডা) সুপারি তিনি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন। ফলে সুপারির দাম ভালো পাওয়ায় খুশি তিনি।
রায়পুর উপজেলার চরআবাবিল গ্রামের সুপারি চাষি জামাল হোসেন জানান, তিনি ১০ গণ্ডা জমিতে সুপারি বাগান করেছেন। তিনি জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতিতে সুপারি চাষাবাদ করায় লাভবান হচ্ছেন তিনি।
সদর উপজেলার দালাল বাজারের ইউসুফ, সুমনসহ কয়েকজন সুপারি ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার সুপারির বাজার দর ভালো। গত বছর এ সময় প্রতি কাউন (১৬ পণ) সুপারি বিকিকিনি হতো ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা। এবার তা হচ্ছে ১৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। প্রতি পণ (২০ গণ্ডা) সুপারি এখন মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে সুপারির বাজারদর আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
কুমিল্লা থেকে পাইকারি সুপারি কিনতে এসেছেন আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, লক্ষ্মীপুরের সুপারির গুণগতমান ভালো ও সুস্বাদু হওয়ায় এখানকার সুপারির দিকে ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি। তাই তিনি এখানকার পাইকারি সুপারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুপারি কিনতে এসেছেন।
সদর উপজেলার রাখালিয়া বাজারের সুপারির ব্যবসায়ী কামরুল হোসেন জানান, এ অঞ্চলের উৎপাদিত সুপারি মানের দিক থেকে ভালো হওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এর বেশ চাহিদা রয়েছে। তাই তিনি সদর উপজেলার দালাল বাজার, রাখালিয়া বাজার, মান্দারিবাজার থেকে সুপারি কিনে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সুপারি বিক্রি করছেন। এ মৌসুমে বাজারদর ভালো পাওয়ায় সুপারি বেচাকেনা করে লাভবান হচ্ছেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ কিশোর কুমার মজুমদার জানান, এ অঞ্চলের জন্য সুপারি একটি সম্ভাবনাময় ফসল। আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করায় দিন দিন সুপারি চাষাবাদে লাভবান হচ্ছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। তবে সুপারির সহায়ক শিল্প ও প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে, কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন বলেও তিনি মনে করেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..