প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

লক্ষ্য উৎপাদন বাড়ানো নতুন ঋণচুক্তি করছে ওরিয়ন ফার্মা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন ঋণচুক্তি করছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড। কোম্পানিটি জার্মানির ফ্রাংকফুটের বিএইচএফ ব্যাংকের সঙ্গে একটি ঋণচুক্তি করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নেবে ওরিয়ন ফার্মা। এর ফলে কোম্পানিটিকে বছরে দুই দশমিক ১৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। কোম্পানিটিকে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থাপনা ফি ও কমিটমেন্ট ফিও দিতে হবে।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে ঋণচুক্তি সম্পন্ন হয়। আর গত বুধবার বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিআইডিএ) ২২ ফেব্রুয়ারি এ চুক্তি অনুমোদন করেছে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানি। তাদের অনুমোদিত ৫০০ কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ২৩৪ কোটি টাকা। গতকাল কোম্পানিটির ২০ কোটি ৭৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ৩৯ লাখ ৬৩৭টি শেয়ার মোট দুই হাজার ২৯৮ বার হাতবদল হয়। ওইদিন শেয়ারদর আগের দিনের তুলনায় এক দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ৭০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৫৩ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৫৩ টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৫২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫৩ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত ১৮ মাসের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে পাঁচ টাকা ৬৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ৬৯ টাকা ৯৯ পয়সা।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছে এক টাকা ১৭ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল ৭৩ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে ৪৪ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত এনএভি দাঁড়িয়েছে ৭১ টাকা ৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৬৯ টাকা ৪৮ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৩১ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে এক টাকা ২৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল এক টাকা ২৭ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে দুই পয়সা। গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে দুই টাকা ৪৬ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল দুই টাকা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত এনএভি ছিল ৭০ টাকা ৭২ পয়সা, যা একই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল ৬৯ টাকা ৯৯ পয়সা।

২০১৪ সালে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই সময় ইপিএস হয়েছিল চার টাকা ২৫ পয়সা এবং এনএভি ৬৭ টাকা ৫০ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ৯৯ কোটি ৪০ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৯০ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারমূল্য আয় (পিই) অনুপাতে ৯ দশমিক ৩৮ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১০ দশমিক ৭৭।

কোম্পানিটির ২৩ কোটি ৪০ লাখ শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে ৩১ দশমিক ৯৪ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালক, ৩৬ দশমিক ৭১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক, তিন দশমিক ৯৩ শতাংশ বিদেশি ও ২৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।