স্পোর্টস

লজ্জার হার বাঁচাতে পারে বৃষ্টি!

ক্রীড়া ডেস্ক: চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের হার নিশ্চিত। গতকাল টাইগারদের ব্যাটিং দেখে সেটা নিশ্চয়ই অনুমান করেছেন ভক্তরা। তবে তাদের মাঝে এ টেস্ট বাঁচানোর একটি আশা অবশ্য তৈরি করেছে বৃষ্টি। কেননা, এ ম্যাচের চতুর্থ দিনের অনেকটা সময়ই কেড়ে নিয়েছিল বৃষ্টি। আজও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির এ ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তা হলে তো হয়েই গেল!
গতকাল চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা বৃষ্টির জন্য শুরু হতে বেশ দেরি হয়। আবার শেষ সেশনে প্রায় ১২ ওভারের মতো খেলা বাকি থাকতে বৃষ্টি বাগড়া দেয়। বাধ্য হয়ে আম্পায়াররা দিনের খেলার ইতি টানেন। তাতে বাংলাদেশেরই লাভ হয়। সাকিবরা আজ অন্তত ম্যাচটা নিতে পেরেছেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬০ রান অলআউট হয় আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ১৩৭ রানে এগিয়ে থাকায় দলটি লিড পায় ৩৯৭ রানের। মানে এ টেস্ট জিততে হলে টাইগারদের দরকার ৩৯৮ রান। সে লক্ষ্যে খেলতে নেমে গতকালই ৬ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা স্কোরবোর্ডে জমা করে মাত্র ১৩৬ রান। ৪৬ বলে ৪ চারে ৩৯ রান করে অপরাজিত আছেন সাকিব আল হাসান। ৫ বল খেলে কোনো রান না করা সৌম্য আছেন সাকিবের সঙ্গে। ৪৬ রান খরচে ৩ উইকেট নেওয়া রাশিদ খান আফগানদের হয়ে সফলতম বোলার। শেষ দিনে জিততে বাংলাদেশের দরকার ২৬২ রান, আফগানিস্তানের ৪ উইকেট।
চতুর্থ ইনিংসে ৩৯৮ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড এখন পর্যন্ত আছে ৪টি দলের। তাই হয়তো গতকাল একটু সাহসই দেখানোর চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ। এজন্য তো ওপেনিংয়ে সাদমান ইসলামের সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্ট লিটন কুমার দাসকে পাঠিয়ে দেয়। পরিকল্পনা অবশ্য কাজে দিয়েছিল। কিন্তু লিটন কুমার দাসের অবিবেচক শটে দ্রুতই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। যা আরও বাড়িয়ে দেন ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন। এ ডানহাতি জহির খানের গুগলি বুঝতে না পেরে খেলেন বড় শট। তাতে বল উঠে যায় লং অফে। কিছুটা পেছনে গিয়ে ক্যাচ নেন আজগর আফগান। পরে অবশ্য সাদমান-মুশফিকুর রহিম চেষ্টা করেছিলেন দলের বিপদে হাল ধরতে। কিন্তু রশিদ খানের বলে বিভ্রান্তিতে পড়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন মুশি। এদিকে মুমিনুল হকও টেকেননি বেশিক্ষণ। তিনিও রশিদের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ফেরেন। তবে সাদমান এক প্রান্তে বেশ খেলছিলেন। কিন্তু চা-বিরতির পরই এ বাঁহাতি ব্যক্তিগত ৪১ রানে মোহাম্মদ নবীর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরেন। এর কিছুক্ষণ পরই রশিদের বল ঠেকাতে গিয়ে এজ হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বল চলে যায় ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে দাঁড়ানো ইব্রাহিম জাদরানের হাতে। সে সময় টাইগারদের স্কোরবোর্ড বলছিল ১৩৬ রান তুলতেই নেই ৬ উইকেট।
বিপদের মুহূর্তে অবশ্য এক প্রান্ত আগলে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। তার সঙ্গে সে সময় যোগ দেন সৌম্য সরকার। কিন্তু এ জুটিকে মেলে ধরতে দেয়নি বেরসিক বৃষ্টি। হয়তো এ কারণে স্বাগতিকরা চট্টগ্রাম টেস্টে নিতে পেরেছে পঞ্চম দিনে।
এর আগে আফগানদের হাতে থাকা বাকি ২ উইকেট তুলে নিয়ে ২৬০ রানে থেমেছিল বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৪২
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২০৫
আফগানিস্তান ২য় ইনিংস: ২৬০
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩৯৮) ৪৪.২ ওভারে ১৩৬/৬ (লিটন ৯, সাদমান ৪১, মোসাদ্দেক ১২, মুশফিক ২৩, মুমিনুল ৩, সাকিব ৩৯*, মাহমুদউল্লাহ ৭, সৌম্য ০*; ইয়ামিন ৪-১-১৪-০, নবী ১৭.২-৪-৩৮-১, রশিদ ১৩-০-৪৬-৩, জহির ১০-০-৩৬-২)।

 

সর্বশেষ..