স্পোর্টস

লড়াইও করতে পারেনি বাংলাদেশ

এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হার

ক্রীড়া ডেস্ক: গত কয়েক মাস টি-টোয়েন্টিতে উন্নতির পথেই ছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তান সফরে তাই টাইগাররা ম্যাচ বাই ম্যাচ জিতে ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরতে চেয়েছিল। কিন্তু গত পরশু স্বাগতিকদের বিপক্ষে হেরে তাতে লেগেছিল বড় আঘাত। তারপরও হাল ছেড়ে দেয়নি দলটি। কিন্তু গতকাল বাজে ব্যাটিং-বোলিংয়ের কারণে লড়াইটা পর্যন্ত করতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। যে কারণে ৯ উইকেটে হেরে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হাতছাড়া করেছে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা।

সিরিজের প্রথম ম্যাচের মতোই গতকাল তামিম ইকবাল শুরুটা করেছিলেন ধীরে। কিন্তু অন্য প্রান্তে এ বাঁহাতি নিয়মিত হারাচ্ছিলেন সতীর্থদের। তারপরও আফিফ হোসেনকে নিয়ে চেষ্টা করেছিলেন রানের গতি বাড়াতে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য এ বাঁহাতি ৫৩ বলে ৭ চার ১ ছয়ে ৬৫ রান করে দলকে মোটামুটি একটা জায়গায় রেখে যান। কিন্তু শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ঝড় তুলতে না পারায় বাংলাদেশ থামে ৬ উইকেটে মাত্র ১৩৬ রানে। বল হাতে অবশ্য আগের ম্যাচের মতোই গতকাল বাংলাদেশকে শুরুতে উইকেট এনে দিয়েছিলেন শফিউল ইসলাম। কিন্তু পরে আর এ সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি টাইগাররা। সে সুযোগে সফরকারীদের ওপর তাণ্ডব চালান পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম ও অভিজ্ঞ মোহাম্মদ হাফিজ। শেষ পর্যন্ত তারা ২১ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেন। এর ফলে ২-০ ব্যবধানে পাকিস্তান নিশ্চিত করে সিরিজ জয়।

১৩৭ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে গতকাল শফিউলের কল্যাণে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এ ডানহাতি পেসার মাহমুদউল্লাহর ক্যাচে ফিরিয়ে দেন পাক ওপেনার আহসান আলীকে। এরপরের গল্প শুধুই বাবর-হাফিজের। দ্বিতীয় উইকেটে তারা শুরুটা দেখেশুনে করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্বরূপে ফেরেন। সে ধারাবাহিকতায় তারা ১৩০ রানের জুটি গড়ে দলকে জিতিয়েই ফেরেন। এর মধ্যে ৪৯ বলে ৯ চার ও ১ ছয়ে ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন হাফিজ। অন্যদিকে বাবর ৪৪ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে অপরাজিত ছিলেন সমান ৬৬ রানে।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শাহিন শাহ আফ্রিদির দারুণ এক বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নাঈম (০)। গতকাল ওয়ান ডাউনে সুযোগ পেয়েছিলেন মেহেদী হাসান। কিন্তু তিনি (১২ বলে ৯) হাসনাইনের বাউন্সারকে ঠিক কোথায় পাঠাতে চেয়েছিলেন, সেটি তিনিই ভালো জানেন! যে কারণে উইকেটরক্ষকের মাথার ওপর উঠে যায় সহজ ক্যাচ।

শুরুতে দ্রুত ৩ উইকেট পড়ায় তামিম লম্বা সময় খোলসবন্দি ছিলেন। তবে এ বাঁহাতি এক প্রান্ত আগলে রেখে ৫৩ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন। বলতে গেলে তার ব্যাটিংয়ের সুবাদে বাংলাদেশ পায় ৬ উইকেটে ১৩৬ রানের পুঁজি।

তামিম ছাড়া আর কেউ পারেননি নিজেকে চেনাতে। চারে নামা লিটন ১৪ বলে ৮ রান করে আউট হন শাদাব খানের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে। এদিকে আফিফ ২০ বলে ২১ রানের বেশি করতে পারেননি। শেষ দিকে হারিস রউফের বলে বোল্ড হওয়ার আগে মাহমুদউল্লাহ করেন মাত্র ১২ বলে ১২ রান। যে কারণে দলীয় স্কোর গত পরশুর চেয়ে ৫ রান কম হয়। তাতে কী? পাকিস্তান তো গত ম্যাচের গতকাল জিতে দাপুটের সঙ্গে। এর ফলে স্বাগতিকরা এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করেছে।

আজ কোনো খেলা নেই। কাল সেই গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচ হারলেই টাইগাররা হবে হোয়াইটওয়াশ, যা কখনই চাইবেন না মাহমুদউল্লাহরা। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৬/৬ (তামিম ৬৫, নাঈম ০, মেহেদি ৯, লিটন ৮, আফিফ ২১, মাহমুদউল্লাহ ১২, সৌম্য ৫*, বিপ্লব ৮*; ইমাদ ২-০-১৬-০, আফ্রিদি ৪-০-২২-১, হাসনাইন ৪-০-২০-২, রউফ ৪-০-২৭-১, শাদাব ৩-০-২৮-১, মালিক ২-০-৯-০, ইফতিখার ১-০-১২-০)।

পাকিস্তান: ১৬.৪ ওভারে ১৩৭/১ (বাবর ৬৬*, এহসান ০, হাফিজ ৬৭*; মেহেদি ৪-০-২৮-০, শফিউল ৩-০-২৭-১, আল আমিন ৩-০-১৭-০, মোস্তাফিজ ৩-০-২৯-০, বিপ্লব ২-০-১৬-০, আফিফ ১-০-১৬-০, মাহমুদউল্লাহ ০.৪-০-৩-০)।

ফল: পাকিস্তান ৯ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে পাকিস্তান ২-০তে এগিয়ে

ম্যাচসেরা: বাবর আজম

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..