প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

লবণ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন নিয়ে শঙ্কায় বিসিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলের সাত উপজেলায় ইতিপূর্বে শুরু হয়েছে লবণ চাষ। কিন্তু চলতি বছর লবণ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন নিয়ে শঙ্কায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক)। মহেশখালী-টেকনাফ বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় চাষিরাও উৎপাদনে নেমেছেন ঝুঁকি নিয়ে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ঘোষণা পেয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে পুরোদমে শুরু হয়েছে লবণ চাষ।

কক্সবাজারের পরিবেশ অনুকূলে থাকায় নভেম্বরের প্রথম থেকে উৎপাদন শুরু করেছেন চাষিরা। তবে এখনও লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে পারেনি বিসিক। তার কারণ হলো চলতি মৌসুমে মহেশখালী ও টেকনাফে ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কার না করা। তাছাড়া মাতারবাড়ী প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিপুল পরিমাণ লবণ চাষের জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তাই চলতি বছর ওই ধরনের জমি কমার কারণে বিসিক লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে পারছে না। বিসিকের তথ্যমতে, উপকূলের সাত উপজেলায় অর্ধলক্ষাধিক চাষি লবণ চাষ করে থাকেন। প্রান্তিক চাষিরা মজুরির বিনিময়ে আরও অর্ধলক্ষাধিক চাষি লবণ চাষাবাদে নিয়োগ করেন। ফলে লক্ষাধিক উপকূলীয় বাসিন্দা লবণ চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। লবণ পরিবহন, মিলিং এবং বাজারজাতে প্রায় চার লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

বিসিক (কক্সবাজার) কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আফসার উদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এ বছর চাষিরা ঝুঁকি নিয়ে লবণ উৎপাদন করছেন। বেড়িবাঁধ সংস্কার না হওয়াটাই এর মূল কারণ। তাছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে অধিগৃহীত জমি আবাদ কমিয়ে আনবে ২০ শতাংশের বেশি। তাই লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। জানা গেছে, চলতি অর্থবছর লবণ উৎপাদন মৌসুমে (নভেম্বর-মে) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ ও চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় লবণ চাষ সাধারণত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং উৎপাদন মৌসুমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা দিনরাত খেটে লক্ষ্যমাত্রার অধিক লবণ উৎপাদন করে থাকেন।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে লবণ উৎপাদন হয় ১৫ লাখ ৫৫ হাজার টন। সেবার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা পূরণে সরকার দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেয় মিল মালিকদের।