কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

লভ্যাংশ পাঠিয়েছে তিন কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ পাঠিয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, আরগন ডেনিমস লিমিটেড ও ইভিন্স টেক্সটাইলস লিমিটেড। ঘোষিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের (বিইএফটিএন) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইউনাইটেড পাওয়ার: ২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে কোম্পনিটি। ওই সময় কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৬ টাকা আট পয়সা এবং ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৮০ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ১৬ টাকা ১৪ পয়সা।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে, যা তার আগের বছর একই সময় ছিল ৯০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস। আলোচিত সময় ইপিএস হয়েছে ১১ টাকা ৫১ পয়সা এবং এনএভি ছিল ৪০ টাকা ৮০ পয়সা, যা তার আগের বছর ছিল ১১ টাকা ৫০ পয়সা ও ৪১ টাকা ২২ পয়সা। ২০১৮ সালে মুনাফা করেছে ৪৫৯ কোটি ৬৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আগের বছর হয়েছিল ৪১৭ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

‘এ’ ক্যাটেগরির ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির ৮০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৫২৬ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ দুই হাজার ২৭৭ কোটি ১৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট ৫২ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭০১টি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে ৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ছয় দশমিক ৮৭ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ এবং তিন দশমিক শূন্য আট শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১৫ দশমিক ৭৫ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১৮ দশমিক ৭৮।

আরগন ডেনিমস লিমিটেড: ২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১০ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে তিন টাকা ছয় পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৯৩ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে তিন টাকা ১৯ পয়সা।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে তিন টাকা ১৮ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ২৬ টাকা ৫৬ পয়সা। ‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ১৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১২৬ কোটি টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১৩৬ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট ১২ কোটি ৫৯ লাখ ৭৬ হাজার ৬০টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৩৬ দশমিক শূন্য আট শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে মূল্য আয় অনুপাতে ছয় দশমিক ১৮ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ছয় দশমিক ৩০।

ইভিন্স টেক্সটাইল লিমিটেড: ২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি দুই শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছে এক টাকা সাত পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৩২ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ দাঁড়িয়েছে দুই টাকা ৪৯ পয়সা।

এদিকে গতকাল ডিএসইতে শেয়ারদর তিন দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ৪০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১১ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ১১ টাকা। দিনজুড়ে তিন লাখ ৭২ হাজার ২৫৫টি শেয়ার মোট ৩০৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৪০ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১১ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর আট টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১৪ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..