প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

লভ্যাংশ বেশি দেওয়ার গুজবে তিন কোম্পানির উল্লম্ফন

নিজস্ব প্রতিবদেক : আগের বছরের চেয়ে এবার সমাপ্ত হিসাববছরে বেশি লভ্যাংশ দেওয়া হবে এ গুজবে তিন কোম্পানির শেয়ারদরে উল্লম্ফন দেখা গেছে। কোম্পানি তিনটি হচ্ছে মুন্নু সিরামিক, ফাইন ফুড ও সাফকো স্পিনিং। তবে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও তাদের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়নি। তাই কী পরিমাণ লভ্যাংশ দেওয়া হবে, তা বলা যাচ্ছে না। এছাড়া দর বাড়ার অন্য কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কোম্পানিগুলোর কাছে নেই।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকদিন ধরে পুঁজিবাজারে নিম্নমুখী ধারা বিরাজ করছে। এ বাজারে দুর্বল ভিত্তির কয়েকটি কোম্পানির দর বাড়তে দেখা গেছে। এর মধ্যে তিনটি কোম্পানির সমাপ্ত হিসাববছরে বেশি লভ্যাংশ দেবে বলে গুজব রয়েছে। কোম্পানিগুলোর রাইট শেয়ার ঘোষণা করবে বলেও গুজব চলছে। এসব কারণে কোম্পানিগুলোর দরে উল্লম্ফন দেখা গেছে। তবে গুজবে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দেন তারা।

তথ্যমতে, মুন্নু সিরামিকের শেয়ারদর আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাড়তে শুরু করে। ওই সময় কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৪১ টাকা ৫০ পয়সা। কোম্পানির শেয়ারদর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১১২ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এরপর থেকে পতন শুরু হয়ে কোম্পানির শেয়ার ৭১ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। এদিকে গতকাল কোম্পানির শেয়ারদর গতকাল ৭৮ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। কোম্পানির শেয়ারদর গত এক বছরে সর্বনি¤œ ৩৪ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১১৯ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

কোম্পানিটির লভ্যাংশ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ২০১২ সাল থেকে কোম্পানিটি পাঁচ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। তবে এবার বেশি লভ্যাংশ দেবে বলে গুজব চলছে বাজারে।

‘লভ্যাংশ আগের চেয়ে বাড়ানো হবে কি না’জানতে চাইলে মুন্নু সিরামিকের কোম্পানি সচিব (চলতি দায়িত্বে) বিনয় পাল শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আর্থিক প্রতিবেদন এখনও তৈরি হয়নি, কাজ চলছে। তবে বোর্ডসভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওইদিন আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় উঠে আসবে কোম্পানির মুনাফা পরিমাণ। এর ওপর ভিত্তি করে লভ্যাংশ ঘোষণা করবে পরিচালনা পর্ষদ।’

তিনি বলেন, ‘শেয়ারদর বাড়ার কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কোম্পানির কাছে নেই।’

এদিকে ফাইন ফুড লিমিটেডের শেয়ারদর চলতি বছরের শুরু থেকে বাড়তে থাকে। ওই সময় কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ২৬ টাকা ৫০ পয়সা। আগস্টের শেষ দিকে কোম্পানির শেয়ার সর্বোচ্চ ৫৩ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এরপর থেকে কোম্পানির শেয়ারে পতন দেখা দেয়। এতে কোম্পানির শেয়ার ২৮ টাকা ৫০ পয়সায় বেচাকেনা হয়। গতকাল কোম্পানির শেয়ার ৩১ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার সর্বনিম্ন ১০ টাকা ৭০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ৫৪ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

কোম্পানির লভ্যাংশ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১২ সালে ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিলেও পরের বছর তা দুই শতাংশে নেমে আসে। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে কোম্পানিটির লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে আসে। ২০১৬ সালে কোম্পানিটি দুই শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে ফের ‘বি’ ক্যাটাগরিতে স্থান করে নেয়। লোকসানে থাকা কোম্পানিটির নামমাত্র মুনাফায় ফিরেছে। এবার কোম্পানিটি বেশি লভ্যাংশ দেবে বলে গুজব রয়েছে।

সাফকো স্পিনিংয়ের শেয়ারদর চলতি বছরের জুন থেকে বাড়তে থাকে। ওই সময় কোম্পানির শেয়ার ১৩ টাকা ৩০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। কোম্পানিটি শেয়ার সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এরপর থেকে কোম্পানির শেয়ারদরে পতন হয়ে ১৪ টাকা ৯০ পয়সায় বেচাকেনা হয়। গত কয়েকদিন ধরে কোম্পানির শেয়ার বেড়ে ১৭ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার সর্বনিম্ন ১০ টাকা ১০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ২১ টাকায় লেনদেন হয়েছে।