প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

লাইসেন্সভিত্তিক রাজস্ব আয় বেড়েছে বিটিআরসির

হামিদুর রহমান: দেশে ডিজিটাল সেবা বাড়ায় প্রযুক্তি খাতে সরকারের রাজস্ব বাড়ছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে লাইসেন্সভিত্তিক আয় বেড়েছে প্রায় তিন হাজার ২১০ কোটি টাকা।  ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্সভিত্তিত আয় হয়েছে প্রায় তিন হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্সভিত্তিক রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৫৭২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিআরসির এ খাতে আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার ৭৮৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে সর্বপ্রথম করোনাভাইরাস আঘাত হানায় অনেক খাত বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশের অর্থনীতিতেও বড় রকম প্রভাব পড়ে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে লাইসেন্সভিত্তিক রাজস্ব কমে যায়। তবে এর আগের অর্থবছর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিটিআরসির এ খাতে রাজস্ব আয় ছিল প্রায় তিন হাজার ২১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে কয়েকটি খাতে রাজস্ব আদায় ওঠা-নামা করলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে লাইসেন্সভিত্তিক রাজস্ব আয় বেড়েছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিআরসির ইন্টারনাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) লাইসেন্স থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ২২৫ কোটি টাকা, ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ২২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে চার কোটি টাকা, সেলুলার মোবাইল ফোন (এমএনও) থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় তিন হাজার সাত কোটি ৫৪ লাখ টাকা, ইন্টারন্যাশনাল টেরিসট্রিয়াল কেব্ল (আইটিসি) থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি ৭৮ লাখ টাকা, টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স (টিএসসি) থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় সাত কোটি ২৫ লাখ টাকা, পাবলিক সুইচ টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন) থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, ভিওআইসি সার্ভিস প্রোভাইডার (বিএসপি) থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় এক কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন-সিউন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এছাড়া একই সময়ে ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (এনআইএক্স) থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ২৫ হাজার টাকা, ভেহিকল ট্র্যাকিং সার্ভিস (ভিটিএস) থেকে রাজস্ব আয় এক কোটি ৩৯ লাখ, ইন্টারনেট প্রোটোকল টেলিফোনি সার্ভিস প্রোভাইড (আইপিটিএসপি) থেকে রাজস্ব আয় দুই কোটি ৪৭ লাখ, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি ১১ লাখ, ভিএসএটি থেকে রাজস্ব আয় এক কোটি ছয় লাখ, টেলিকমিউনিকেশন ভ্যালু অ্যাডেট সার্ভিস (টিভিএএস) থেকে রাজস্ব আয় ৪৪ লাখ, কলসেন্টার লাইসেন্স থেকে রাজস্ব আয় ২০ লাখ, ভিডিও কনফারেন্স থেকে রাজস্ব আয় প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ, ভেন্ডর সার্টিফিকেট থেকে রাজস্ব আয় তিন কোটি ৯৭ লাখ এবং শর্ট কোড থেকে রাজস্ব আয় তিন কোটি আট লাখ টাকা।

একই সময়ে টিভি চ্যানেল স্পেকট্রাম চার্জ থেকে রাজস্ব আয় ৫৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, গভর্নমেন্ট অরগানাইজেশন স্পেকট্রাম চার্জ থেকে রাজস্ব আয় আট কোটি ৫০ লাখ, ওয়াকিটকি সার্টিফিকেট থেকে রাজস্ব আয় এক কোটি ৬৮ লাখ, এমপিএলএস সার্ভিস থেকে রাজস্ব আয় ১৩ লাখ, ডিটিএইচ অপারেটরস স্পেকট্রাম চার্জ থেকে রাজস্ব আয় ছয় কোটি ৯৪ লাখ, রেডিও চ্যানেল থেকে রাজস্ব আয় দুই কোটি ৮৭ লাখ, অ্যারোনটিক্যাল অ্যান্ড মেরিটাইম স্পেকট্রাম চার্জ থেকে রাজস্ব আয় ৭১ লাখ, স্পেকট্রাম চার্জ পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট অরগানাইজেশন থেকে রাজস্ব আয় ৪৬ লাখ এবং এটুপি সার্ভিস থেকে রাজস্ব আয় প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা।