দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

লাগামহীন পতনে ৫৬ মাস আগের অবস্থানে সূচক

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা সামাল দিতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। নতুন বছরের শুরু থেকে বড় পতন দেখছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল আরও বড় পতন দেখেছেন তারা। এদিন সিংহভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দর হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সূচকের পতন হয়েছে ৮৯ পয়েন্ট। এ পতনের জেরে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান চলে গেছে ৫৬ মাস আগের অবস্থানে।

গত সপ্তাহজুড়ে বড় পতনের পর চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচক ১৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। গতকাল দ্বিতীয় দিনে এসে আবারও আগের অবস্থানে ফিরে যায় বাজার। দিনের শুরুতে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা নি¤œমুখী হতে শুরু করে, যা দিনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিন শেষে ৮৯ পয়েন্ট কমে সূচকের অবস্থান হয় চার হাজার ১২৩ পয়েন্ট। এর আগে ২০১৫ সালের ৭ মে সূচকের অবস্থান ছিল চার হাজার ১২২ পয়েন্ট।

এদিকে গতকাল দিনজুড়েই প্রায় সব কোম্পানিতে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার সংখ্যা বেশি ছিল। এক সময় বেশকিছু কোম্পানির শেয়ার ক্রেতাশূন্য হয়ে যায়। ফলে শেয়ারদর কমতে থাকে। এ অবস্থায় যারা শেয়ার বিক্রি করেছেন, সবাইকে লোকসান দিতে হয়েছে।

এদিকে পতনের কবলে পড়ে দর হারিয়েছে ৮০ শতাংশ ব্ল–চিপ কোম্পানি। এ তালিকায় থাকা ৩০ কোম্পানির মধ্যে গতকাল ২৪ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে। পক্ষান্তরে বাড়ে চার প্রতিষ্ঠানের। আর মূল্য পরিবর্তন হয়নি দুই কোম্পানির শেয়ারের।

এদিকে গতকালের পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন তিন লাখ ২৫ হাজার ২৬০ কোটি টাকা থেকে তিন লাখ ১৯ হাজার ৭৬ কোটি টাকায় নেমে আসে। অর্থাৎ, একদিনে বাজার মূলধন কমেছে ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি।

এদিকে পতন বড় হওয়ায় পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উৎকণ্ঠা আরও বাড়ছে। পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন তারা। পতনের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। তাদের অভিমত, এখন যে অবস্থায় রয়েছে, এ অবস্থা থেকে পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক পতন হওয়ার কোনো উল্লেখযোগ্য কারণ নেই। কেউ বা কিছু ব্যক্তি হয়তো কৃত্রিমভাবে বাজারের এ পরিস্থিতি তৈরি করছেন।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মডার্ন সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা নুর-ই-নাহারিন তার ফেসবুকে লেখেন: ‘পুঁজিবাজারে ১০০ পয়েন্ট পতন। বিশ্বসেরা অর্থমন্ত্রীর কথায় কেবলই রিউমার। আমরা বিনিয়োগকারীরা মরে যাচ্ছি, ধ্বংস হচ্ছি; দেখার কেউ নেই।’

একই প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজারকে যাদের সাপোর্ট দেওয়ার কথা, তারা বর্তমানে চুপ রয়েছে। ফলে বাজারচিত্র বদলাচ্ছে না। এ কথা ঠিক, বর্তমানে বাজারে বেশিরভাগ শেয়ার সস্তা; কিন্তু এখানে নতুন অর্থ না এলে এসব শেয়ার আরও সস্তা হয়ে যাবে।

এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা, বাড়ছে ক্ষোভ। তাদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, পুঁজিবাজার নিয়ে তারা খুবই শঙ্কিত। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাদের অবস্থা আরও করুণ হবে বলে তারা অভিমত প্রকাশ করেন।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, যাদের পুঁজিবাজার নিয়ে ভাবার কথা, আসলে এ নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। তারা চান না পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হোক। যে কারণে দীর্ঘমেয়াদি অপেক্ষা করেও আমরা কোনো ফল পাচ্ছি না।

তারা বলেন, বহুদিন থেকে বাজারে নীরব দরপতন চলছে। অথচ বিএসইসিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখছে না। সবার আগে কারা বাজার নিয়ে কারসাজি করছে, তাদের বের করা দরকার। সেটা করা হচ্ছে না। ফলে বাজারও তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসছে না।

পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আবুল হোসেন নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট চলছে; আইসিবিসহ যাদের বাজারে আসার কথা, তারা আসছেন না, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। তারা অপেক্ষায় রয়েছেন আরও কম দরে শেয়ার কেনার। আর তার মাশুল দিচ্ছি আমরা।

তিনি বলেন, দিন যত যাচ্ছে, পতন ততই বড় হচ্ছে। অথচ ডিএসই, বিএসইসিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। বাজার পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে তারা রশি টানাটানি করছে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে হবেন তা নিয়ে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..