সারা বাংলা

লাঘব হবে ফেনীর অক্সিজেন প্রত্যাশী রোগীদের দুর্দশা

প্রতিনিধি, ফেনী: অবশেষে তরল অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপনের মধ্য দিয়ে লাঘব হতে যাচ্ছে ফেনীর মুমূর্ষু রোগীদের ভোগান্তি।

ইউনিসেফের অর্থায়নে ফেনীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থাপিত হচ্ছে ১২ হাজার লিটারের তরল অক্সিজেন ট্যাংক। চলতি বছর এপ্রিলে শুরু হওয়া এ ট্যাংকের কাজ এরই মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংকটির কাজ সম্পন্ন হলে এ হাসপাতালের রোগীদের অক্সিজেনের জন্য ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে ছুটতে হবে না। এতে কভিড-১৯-আক্রান্তদের মৃত্যুঝুঁকি কমার পাশাপাশি শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের দুর্ভোগও লাঘব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাম্প্রতিককালে জেলায় কভিড রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে সিলিন্ডার অক্সিজেনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল জেলার স্বাস্থ্য বিভাগকে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালটিতে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে কপার পাইপ ও ভ্যাপারাইজারসহ প্রয়োজনীয় মেশিন বসানোর কাজ চলছে। এছাড়া প্রায় সব শয্যার পাশে থাকবে অক্সিজেন পোর্ট।

এর আগে গত বছর প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম হাসপাতালটিতে হাই ফ্লো অক্সিজেন সেবা নিশ্চিত করতে ১০টি বড় আকারের ম্যানিফোল্ড অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ৪৫টি অক্সিমিটার দিয়েছিলেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দুই শয্যার আইসিইউ সুবিধা। তবে অক্সিজেন সরবরাহে সীমাবদ্ধতার কারণে তা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল হোসেন ভুঁইয়া। প্রতিদিন কভিড রোগীদের জন্য প্রায় ৪০ থেকে ৬০ লিটার অক্সিজেন প্রয়োজন পড়লেও ট্যাংক না থাকায় তা সরবরাহে বিঘœ হতো।

এ তরল অক্সিজেন ট্যাংকটি স্থাপন করা হলে পর্যায়ক্রমে সবকটি আইসিইউ ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। এর আগে অক্সিজেন সংকটের কারণে মুমূর্ষু রোগীদের চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায় স্থানান্তর করা হলেও এখন থেকে ফেনীতেই তাদের পর্যাপ্ত অক্সিজেন সেবা দেয়া যাবে।

অন্যদিকে ট্যাংক স্থাপনের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী জানান, এ মাসের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়। আগামী মাস থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে শুরুর ছয় মাস পর্যন্ত ইউনিসেফ নিজস্ব লোক দিয়ে কাজ করলেও এ সময়ের মধ্যে এটি পরিচালনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব দক্ষ জনবল তৈরি করবে বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..