দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ করছে না ইসলামী ধারার ব্যাংক

বিআইবিএমের ওয়েবিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী ধারা তথা শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের ভিত্তিই হলো লাভ ও ক্ষতি দুটোরই অংশীদার হওয়া। এটাই শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের পরিচয়। বাংলাদেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চললেও তারা এটি অনুসরণ করছে না। প্রচলিত ধারার সুদভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের মতো শুধু মুনাফাকেন্দ্রিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। দেশের ইসলামী ধারার ব্যাংকিং নিয়ে এমন অভিমত দিয়েছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।

‘কভিড-১৯ ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ফর ইসলামিক ব্যাংকস; প্রপোজাল ফর দ্য নিউ নরমাল সিনারিও’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এমনটি বলেছেন তারা। গতকাল অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) ও দ্য গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব ইসলামিক ফাইন্যান্স। এতে আলোচক হিসেবে সংযুক্ত হন মালয়েশিয়ার এইচএসবিসি আমানা ব্যাংকের শরিয়াহ বিভাগের প্রধান আহমেদ ফিরাজ, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব ইসলামিক ফাইন্যান্সের ই-লার্নিং বিভাগের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. জিয়াদ মাহমুদ, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব উল আলম।

মূল প্রবন্ধে বিআইবিএমের অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রসার ঘটছে। যদিও পরিচালনাগত দিক দিয়ে প্রচলিত ধারার সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা অনেকটা একই। বিনিয়োগের খাতের দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে।

সুদভিত্তিক ব্যাংকের মতোই আমানত, ঋণ বিতরণ, তারল্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রায় একই ধরনের। এজন্য করোনাকালেও সুদি ব্যাংকের মতো ইসলামী ব্যাংকের ওপর সম আঘাত এসেছে। এজন্য শরিয়াহভিত্তিক হওয়ায় করোনাকালের ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজস্ব উপকরণগুলোর ব্যবহার করতে হবে। ঋণ ও আমানত ব্যবস্থাপনায় শরিয়াহ অনুমোদিত উপকরণগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি করা যেতে পারে। বিশেষ করে শুকুক ও বন্ডের ব্যবহার করা যেতে পারে। শরিয়াহভিত্তিক উপকরণগুলোর সঙ্গে পরিচয় করানোটাও জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের ভিত্তিই হলো লাভের সঙ্গে ক্ষতির ভাগ নেওয়া। এটাই শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের স্বাতন্ত্রতা বা পরিচয়, বিশ্বে যা ‘সিগনেচার’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বাংলাদেশে শরিয়াহভিত্তিক এটি অনুসরণ করছে না।

মালয়েশিয়া থেকে যুক্ত আহমেদ ফিরাজ বলেন, প্রতিটি ব্যাংকেরই খেলাপি ঋণ হয়ে থাকে। ইসলাম এ বিষয়ে খুবই উদারনীতি অবলম্বন করে। ঋণ ফেরত দিতে অসমর্থ প্রকৃত গ্রাহকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বলে। এটিই ইসলামের সৌন্দর্য।

মালয়েশিয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো গ্রহীতা ঋণ ফেরত দিতে অসমর্থ হলে তিনি নিজেকে দেউলিয়া বা অসমর্থ হিসেবে ঘোষণা করে। তখন মালয়েশিয়ার একটি সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করে। ব্যাংকের ঋণটি কিনে নেয়। আবার গ্রাহককে পুনরায় বিনিয়োগের ব্যবস্থা করে দেয়। এজন্য একটি সংস্থা কাজ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে। আবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যাংক নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে। তখনও রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি তদারকি করে। এজন্য লাভ-ক্ষতির অংশীদার হয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা শরিয়াহর সৌন্দর্য।

পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক বলেন, বাংলাদেশের ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো এখন একটু ভালো অবস্থানে এসেছে। মানুষও গ্রহণ করেছে এ ব্যবস্থা। যদিও মুনাফা ও লোকসানের ভিত্তিতে বিনিয়োগ তেমন একটা শুরু করেনি ব্যাংকগুলো। কিন্তু এখন সময় হয়েছে এটি করার।

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব উল আলম বলেন, সুদভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মতো করোনার প্রভাব ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর ওপরও পড়েছে। আমরাও বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি। গ্রাহকদের চিন্তায় পুরোনো কিছু অভ্যাস থেকে যাওয়ায় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো মুনাফা ও লোকসানে ভাগাভাগির মতো বিনিয়োগে যেতে সাহস করছে না। আমাদের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের চিত্রের দিকে নজর দিলেই তা বুঝা যায়। এখন শুকুক ও বন্ডগুলো জনপ্রিয় করতে পারলেও এক সময়ে তাও সম্ভব হবে বলে মনে করি।

সভাপতির বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. আখতারুজ্জামান  বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকগুলো শরিয়াহভিত্তিক নতুন উপকরণ নিয়ে আসতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..