সম্পাদকীয়

লাম্পি স্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিন

চট্টগ্রাম জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত রোগ ‘লাম্পি স্কিন’। এ রোগে সাধারণত গবাদিপশু মারা যায় না; তবুও তার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বাংলাদেশ লাইভস্টক রিসার্চ ইনস্টিটিউট কাজ করছে এমন দাবি চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে করা হলেও খামারিরা দাবি করছেন, প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ২৫০ গরু মারা গেছে। এ বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মধ্যেও প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে তারা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে ত্রুটি রয়েছে। রোগটি চট্টগ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে যদি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তবে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ শিগগিরই যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

গতকালের শেয়ার বিজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কেবল চট্টগ্রামেই ১২ থেকে ১৪ লাখ গবাদিপশু লাম্পি স্কিন ডিজিজে (এলএসডি) আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু রোগটি যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বর্তমানে দেশের প্রায় দুই কোটি ছাগল ও প্রায় তিন কোটি গরুও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। গবাদিপশু ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে প্রায় তিন শতাংশ হারে ভূমিকা রেখেছে। এরপর প্রতি বছর ২৫ শতাংশ হারে গবাদিপশুর খামার বেড়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে এখন খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। খাদ্য, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখা এই বিশাল অর্থনৈতিক খাতে তত্ত্বাবধানের কোনো গাফিলতি নিশ্চয়ই কাম্য নয়।

গত ছয় মাসে চট্টগ্রামে এই ভাইরাসজনিত রোগে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সেখানকার বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে দাবি করা হলেও খামারিরা কোনো ধরনের চিকিৎসা, ভ্যাকসিন বা অন্যান্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে গোটফক্স ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবি জানানো হলেও থানা পর্যায়ে কোনো চিকিৎসা, ডাক্তার ও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি কোনো ধরনের জনসচেতনতা কর্মসূচিও খামারিদের চোখে পড়েনি; মাঠ পর্যায়ের কোনো তদারকিও নেই বলে দাবি উঠেছে। এটি গাফিলতিকেই ইঙ্গিত করে। খামারিরা চিকিৎসা, ভ্যাকসিন ও ব্যবস্থাপত্রসহ বিভিন্ন সহযোগিতা চেয়ে প্রাণিসম্পদ দফতরে যে স্মারকলিপি দিয়েছেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন করে পদক্ষেপ প্রহণের বিকল্প নেই। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ভ্যাকসিন আবিষ্কারসহ দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে করে এর প্রাদুর্ভাব সারা দেশে ছড়িয়ে না পড়ে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..