সারা বাংলা

লালদিয়ার চর থেকে উচ্ছেদ অবৈধ দখলদার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের আওতাধীন পতেঙ্গার লালদিয়ার চর থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বাসিন্দারা চলে যেতে থাকায় কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মূল সড়কের পাশের এলাকায় বাঁশ পুঁতে বেড়া তৈরির কাজ শুরু করেছেন বন্দরের কয়েকশ’ শ্রমিক। এর আগে নিজ উদ্যোগে বাসিন্দারা বসতঘর ছেড়ে চলে যেতে শুরু করে। গতকাল অনেকে ভাঙাবাড়ি ও আসবাব বিক্রি করে দিয়ে রিকশা, ভ্যানে নিজেদের মালামাল সরিয়ে নেন। অনেককে রিকশা, ভ্যান ও ট্রাকের অভাবে মালপত্র নিয়ে অসহায় বসে থাকতে দেখা যায়।

গতকাল সকালে লালদিয়ায় অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ কার্যক্রমে বন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চরে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্য টহল দিচ্ছেন।

চর বন্দরের জায়গা উচ্ছেদ শুরু হওয়ার সময় বোট ক্লাব এলাকায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চবক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৯০ ভাগ চলে গেছেন। অন্যরাও চলে যাচ্ছেন। বল প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। আমরা উদ্বুদ্ধ করেছি যাতে বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় চলে যান। আমরা বেড়া দেব যাতে কেউ আবার দখল করতে না পারে। আর এখন থেকে আনসার সদস্যরা পাহারা দেবেন।

তিনি আরও বলেন, এ জায়গার মালিক বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন জায়গাটা আমাদের পিসিটির ব্যাকআপের জন্য প্রয়োজন। এর আগে ২৬ একর উচ্ছেদ করেছি। শিগগির ৫২ একর জায়গা পুনরুদ্ধার হবে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ হলে সরকার ভূমিহীনদের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। তাদের সহায়তা করার জন্য আমরা তালিকা পাঠিয়েছি।

বন্দরের কর্মকর্তারা বলেন, উচ্চ আদালতের রায় ও নির্দেশ অনুযায়ী ৫২ একর জায়গায় উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আগেই নোটিস ইস্যু ও মাইকিং করে সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কবরস্থান উচ্ছেদের আওতার বাইরে রাখা হবে।

লালদিয়াচর পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আলমগীর হাসান বলেন, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে গত ২০ দিন চেষ্টা করেছি। অহিংস আন্দোলন করেছি। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে আমরা চলে যাচ্ছি। আমাদের ১৪ হাজার মানুষকে পথে নামতে হয়েছে। জানমাল, মা, শিশু, বৃদ্ধদের রক্ষার জন্য আত্মীয়-স্বজনের বাসায় যেতে হচ্ছে। ভাড়া ঘরও পাওয়া যাচ্ছে না। বন্দর চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছি, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমরা পুনর্বাসন চাই, খাসজমি চাই।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..