সারা বাংলা

লালমনিরহাটে এলএসডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

জেআই সমাপ্ত, লালমনিরহাট : লালমনিরহাটে মিল চাতাল মালিকের প্রি-অর্ডারের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলনের জন্য ছাড়পত্রের কাগজে টাকা ছাড়া কোনো স্বাক্ষর করছে না লালমনিরহাট সদর এলএসডি কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম। এর আগে আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহের সময় প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান না নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করেছেন এই খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা। দুদকের প্রাথমিক তদন্তে এর সতত্যা মিলেছে।

জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে মেসার্স মা-তারা চালকলের নামে ১২ দশমিক ৬০ টন চালের বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রি-অর্ডারের টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে যথা সময়ে লালমনিরহাট সদর খাদ্যগুদামে চাল দিয়েছে এ মিল চাতালটি। কিন্তু গত ২২ মার্চ প্রি-অর্ডারের টাকা উত্তোলনের জন্য লালমনিরহাট সদর এলএসডি কর্মকর্তা শাহীনুরের কাছে মিল চাতালের মালিক বাসুদেব চন্দ্র মোদক ছাড়পত্র চাইলে অবৈধভাবে ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। বাধ্য হয়ে আট হাজার টাকা দিলেও বাকি চার হাজার টাকা না দেওয়ায় ছাড়পত্রের কাগজে স্বাক্ষর করেননি এলএসডি কর্মকর্তা শাহীনুর।

মেসার্স মা-তারা চালকলের মালিক বাসুদেব চন্দ্র মোদক জানান, ছাড়পত্রের জন্য গেলে আমার কাছে অবৈধভাবে ১২ হাজার টাকা দাবি করেন এলএসডি কর্মকর্তা। আমি বাধ্য হয়ে তাকে আট হাজার টাকা দিলেও সে আমার ছাড়পত্রের কাগজে স্বাক্ষর করেননি। সে আমাকে জানান এ খাদ্যগুদামে বদলি হয়ে আসতে তার ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তাই তাকে এখান থেকে টাকা তুলতে হবে। অতএব বাকি চার হাজার টাকা না দিলে কোনো ছাড়পত্রের কাগজে স্বাক্ষর করবেন না বলে জানিয়ে দেন তিনি। পরে বিষয়টি লালমনিরহাট সদর উপজেলা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা মিল মালিক সমিতির সভাপতিসহ একাধিক ব্যবসায়ী ও সাংবাদিককে অবগত করা হয়। পরে ২২ মার্চ রাতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আমার মোবাইলে কল দিয়ে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করার কথা বলেন এবং পরদিন ২৩ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে আমাকে দেখা করতে বলেন। যাতে মিডিয়ায় সংবাদটি প্রকাশ না হয়। পরে সকলের উপস্থিতি তো শাহীনুর আমার ছাড়পত্রের কাগজে স্বাক্ষর করলেও এখনও আট হাজার টাকা ফেরত দেননি।    

লালমনিরহাট সদর উপজেলা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা যে ঘটনাটি মিলার বাসুদেবের সঙ্গে করেছে তা ঠিক করেনি। তবে ২৩ মার্চ বিকালে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।

শাহীনুর রহমান এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি নন বলে জানিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব আলী সঙ্গে অফিসে কথা বলতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইলে একাধিকবার কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। 

লালমনিরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমান জানান, এলএসডি কর্মকর্তা কেন টাকা নেবে? আপনি আমাকে বলেন কোন মিল চাতাল মালিকের কাছ থেকে টাকা দাবি করেছেন এলএসডি কর্মকর্তা। আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..