সারা বাংলা

লালমনিরহাটে ভবনসর্বস্ব বিদ্যালয়

জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত, লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের বড়বাড়ী ইউনিয়নে নারিকেলবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ঘর থাকলেও দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে পাঠদান। এমনকি কাগজ-কলমে ৭৭ জন শিক্ষার্থী দেখানো হলেও বাস্তবে নেই কোনো শিক্ষার্থী।
জানা যায়, সদর উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের বলিরাম গ্রামে ১৯৯০ সালে নারিকেলবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর কিছুদিন ভালোভাবে পাঠদান চললেও গত ১০ বছর ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে কাগজ-কলমে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাঠদান দেখানো হলেও বাস্তবে বিদ্যালয়টি গুদাম ঘর হিসেবে ব্যবহƒত হচ্ছে। আর বিদ্যালয়টির বারান্দা থেকে পুরো মাঠে সবজি চাষ করেছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি সেকেন্দার আলী।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৪৮টি। জাতীয়করণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ২৭টি। যার মধ্যে একটি নারিকেলবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সরকারি হিসাব মতে, এ বিদ্যালয়ে ৭৭ জন শিক্ষার্থী পড়ছে। গত বছর সমাপনী পরীক্ষায় দু’জন শিক্ষার্থী পাস করেছে ওই বিদ্যালয় থেকে। কিন্তু সম্প্রতি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে সেখানে পাঠদানের কোনো আলামত না পেয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ।
বিদ্যালয়টির সভাপতি সেকেন্দার আলী এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উপবৃত্তি ব্যবস্থা না থাকায় ১০ বছর ধরে শিক্ষার্থীর অভাবে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী জানান, জাতীয়করণের জন্য প্রক্রিয়াধীন এ বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়ে পাঠদানের কোনো পরিবেশ পাওয়া যায়নি। তাই নতুন বইসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে কেন প্রতারণা করা হয়েছে, সে ব্যাখ্যা চেয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জবাব এলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, বিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বলা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..