প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

লালমনিরহাটে ভাঙনে তিন বিদ্যালয় তিস্তায় বিলীন

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত সাত দিনে তিনটি বিদ্যালয়সহ বেশকিছু বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। সিরাজগঞ্জে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ২৩টি গ্রাম। কুড়িগ্রামে এখনও পানিবন্দি তিন লাখ মানুষ, সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভাঙন। লালমনিরহাট প্রতিনিধি জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি শরীফ আহমদ ইন্না এবং কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আমানুর রহমান খোকন জানাচ্ছেন বিস্তারিত:

লালমনিরহাট : লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বাঁধে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ফলে গত সাত দিনে তিনটি বিদ্যালয়সহ বেশকিছু বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছে।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কুঠিরপাড় বালুর বাঁধের তিনশ ফিট বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া আদিতমারী উপেজলার গোবর্ধন স্পার বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি হাতীবান্ধা উপেজলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের ধবুনী গ্রামে শহররক্ষা বাঁধের আটটি স্থান ভেঙে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ধরলা নদীর তীরবর্তী সদর উপজেলার কুলাঘাটে শহররক্ষা বাঁধ ও হাতীবান্ধা উপজেলা তিস্তা নদীর তীরবর্তী গড্ডিমারী ইউনিয়নের তালেব মোড় এলাকার বাঁধ। সদর উপজেলার শীবের কুঠি ও চর শীবের কুঠি এলাকায়ও ধরলা নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ জানান, তার ইউনিয়নে পূর্ব ডাউয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ ডাউয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিস্তায় বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া গত তিন দিনে ৫৭টি বসতবাড়িসহ অসংখ্য আবাদি জমি নদীতে ভেঙে গেছে। উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিউল আলম রোকন জানান, তার ইউনিয়নে বুধবার বিকালে পশ্চিম হলদিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিস্তায় বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া গত চার দিনে প্রায় ৪০টি বসতবাড়ি নদীতে চলে গেছে।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী জানান, গত বুধবার রাত থেকে তার ইউনিয়নের বাঁধের ভাটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা তিস্তায় বিলীন হয়েছে। সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ঈদ্রিস আলী জানান, ধরলা নদীর তীরবর্তী শহররক্ষা বাঁধটি হুমকির মুখে রয়েছে। এ ছাড়া শীবের কুঠি ও চর শীবের কুঠি এলাকায় আবাদি জমিসহ বসতবাড়ি বিলীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

লালমনিরহাটের বন্যা ও নদীভাঙন দেখভালের দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমএম আরাফাত হোসেন জানান, এখনও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের কোনো তালিকা পাওয়া যায়নি। সে কারণে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। তালিকা তৈরি করে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে।

জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মো. আলা উদ্দিন খান জানান, বন্যা পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। তবে অনেক এলাকায় কিছুটা ভাঙন দেখা দিলেও তার রোধে চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন জানান, ইতোমধ্যে হাতীবান্ধা উপজেলায় তিনটি বিদ্যালয় বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোয় ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীভাঙনের শিকার প্রতিটি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে করতোয়া, গুমানী, হুরাসাগর, ফুলজোড় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে আরও ২৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের প্রায় সাত হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পনি তিন সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ পর্যন্ত বন্যায় জেলার ৫০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৪টি ইউনিয়ন। জেলার বেলকুচি, শাহজাদপুর, কাজিপুর, সদর ও চৌহালী উপজেলার ২৪৭টি গ্রামের ৪৭ হাজার ৬৬০টি পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হাজার ৯৮০ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ২৭ হাজার ২৭৭টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ছয় কিলোমিটার বাঁধ ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নয় হাজার ১৪০ হেক্টর। ১৭৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৩৫০ মেট্রিক টন চাল, দুই হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার ও ১২ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে বলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানিয়েছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক মো. ইউসুফ রেজা জানান, পাঁচ উপজেলার ১৩৯ বিদ্যালয় মাঠে ও ২৭টির ভবনে পানি উঠেছে। কাজিপুর উপজেলার ফুলজোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনায় বিলীন হয়েছে।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে বিভিন্ন পয়েন্টে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এখনও পানিবন্দি তিন লাখ মানুষ। তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি সামান্য বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৯ দিন ধরে স্থায়ী পানিবন্দি মানুষ খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছে। পানি কমতে না কমতেই বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার সাত উপজেলায় ৪২টি ইউনিয়নের সাড়ে ৫০০ গ্রামে ১৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জরুরি এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বন্যার সার্বিক তথ্য তুলে ধরে বলেন, বন্যাদুর্গতদের মধ্যে প্রয়োজনীয় শুকনা খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।