বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

লিংকেজ শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এপিআই পার্ক স্থাপন জরুরি

এলডিসি থেকে উত্তরণ বিষয়ে আইসিএবির ওয়েবিনারে বক্তারা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ফ্যাশন-ডিজাইন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, পণ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে প্রতিযোগিতা টিকে থাকা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও বাণিজ্য সহজীকরণ, আইটি অবকাঠামো উন্নত করা, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদান (এপিআই) পার্ক স্থাপন দেশকে ২০২৬ সালের মধ্যে স্থায়ীভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন: চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে গতকাল বক্তারা এ কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। পরিকল্পনা কমিশনের শিল্পশক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) শরীফা খান এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এলডিসির মর্যাদা থেকে স্থায়ীভাবে গ্র্যাজুয়েশন হলে দেশের বাস্তব উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির একটি স্বীকৃতি মিলবে; যদিও এর ফলে বাংলাদেশকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তারা আরও বলেন যে, দেশটিতে বাণিজ্য দক্ষতা এবং অভিযোজন যোগ্যতার ব্যাপক বিকাশ লাভ করেছে, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি প্রত্যাহার করার পরও দেশে টেক্সটাইল এবং পোশাকশিল্পের সাফল্য প্রসংশনীয়।

ওয়েবিনারে আইসিএবি প্রেসিডেন্ট মাহমুদউল হাসান খুসরু স্বাগত বক্তব্য দেন এবং আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. হুমায়ুন কবির অধিবেশন চেয়ারম্যান হিসেবে ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন। আইসিএবির সিইও ও প্রাক্তন সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বসু মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) সদস্য মোস্তফা আবিদ খান, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলী হুসেন আকবর আলী, অ্যাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মনজুর এবং এফবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ ওয়েবিনারের প্যানেল আলোচক ছিলেন।

প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমাদের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নতুন কিছু বাস্তবতা সামনে নিয়ে আসবে এবং দেশ বৈশ্বিক বাণিজ্যে কিছু সুবিধা হারাতে পারে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউটিও) অধীনে শুল্কমুক্ত সুবিধা আর কার্যকর না থাকায় আমাদের রপ্তানি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বলে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, বড় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক এবং আমাদের ঋণের দায়বদ্ধতা বাড়বে।

তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমাদের দেশে একটি যথাযথ ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি করা দরকার এবং বাণিজ্যের সামগ্রিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরকারকে আরও বেশি করে বিদেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদউল হাসান খুসরু বলেন, বেসরকারি ও সরকারি উভয় ক্ষেত্রেই এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা মেটাতে সরকার ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দুই ডজনেরও বেশি হাইটেক পার্ক উন্নয়ন করছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস সরবরাহ করছে। তিনি বলেন, রপ্তানির গতি বজায় রাখতে দেশকে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বেছে নিতে হবে। এলডিসির পরের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা এবং বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবগুলো হ্রাস করতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক শুভাশীষ বসু বেশকিছু সুপারিশ উপস্থাপন করেন। যার মধ্যে রয়েছে ইইউ বাজারে জিএসপি থেকে জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রাপ্তির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা, বাজারের প্রবেশাধিকার বাড়িয়ে তোলা, পণ্য ও বাজারে বৈচিত্র্য আনয়ন, উৎপাদন পর্যায়ে প্রয়োজনীয়তার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত বাধা দূর করা প্রভৃতি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..