প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

লিটন-মুশফিকের ৫১৩ বলের জুটির গল্প

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সকালটা যদি হয় দুঃস্বপ্নের মতো তবে পরের সময়টুকু ছিল স্বপ্নের চেয়েও যেন বেশি! মুশফিকুর রহিম-লিটন কুমার দাস জন্ম দিলেন নতুন ইতিহাস। গড়লেন রেকর্ড। তার পথ ধরেই মন জয় করে নিলেন ক্রিকেটপ্রেমীদের। মঙ্গলবার ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে এসে ভাঙল এই জুটি। বাংলাদেশের তারকা ব্যাটসম্যান লিটনকে ফেরালেন শ্রীলঙ্কান বোলার কুসন রাজিথা। শেষ হয় ২৭২ রানের জুটির!

ঐতিহাসিক কীর্তি গড়লেন লিটন-মুশফিক। ২৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর মহাবিপর্যয়ের পর দুজন খেলেন স্বপ্নের মতো। দলকে স্বস্তি এনে দিয়ে করেন শতরান। তারপর থেকেই প্রশংশায় ভাসছেন দু’জন। খোদ কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলছেন-এটিই তার কোচিং ক্যারিয়ারের দেখা অন্যতম সেরা জুটি।
ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম সেশন থেকে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন পর্যন্ত ৫১৩ বল খেলেছে লিটন-মুশফিক জুটি। বল খেলার হিসেবে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় দীর্ঘতম জুটি। আর মাত্র একটি বল খেললেই এই জুটি স্পর্শ করতে পারত মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটি। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে এই দুই বাঁহাতির ২৪২ রানের জুটি আসে ৫১৪ বল খেলে।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বল বেশি বল খেলা জুটির রেকর্ডে অবশ্য মুশফিক আছেন। প্রতিপক্ষ এই লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কা। ২০১৩ সালে গলে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে ২৬৭ রানের জুটিতে বল লাগে ৫১৮টি। এবার সেই রেকর্ড ভাঙা হলো না মিরপুরে।

লিটন ক্যারিয়ার সেরা ১৪১ রান করতেই মঙ্গলবার ভাঙল ৫১৩ বল স্থায়ী ২৭২ রানের রেকর্ড জুটি। ২৪৬ বল খেলা কিপার-ব‍্যাটসম‍্যান লিটনের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৬ চার আর এক ছক্কায়।

রানের হিসেবে মুশফিক-লিটনের জুটি টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ। ২৭২ রানের এই জুটির ওপরে থাকা দুটি জুটিই তিনশ ছাড়িয়েছে। মুশফিক আছেন এই রেকর্ড গড়া জুটির আরেকটিতে। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনে সাকিবের সঙ্গে ৩৫৯ রানের জুটি গড়েন তিনি পঞ্চম উইকেটে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১২ রানের জুটি তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনায় এই জুটি গড়েন তারা। টেস্টে কোনো দলের দ্বিতীয় ইনিংসে যা টেস্ট ইতিহাসের প্রথম আর এখনও পর্যন্ত একমাত্র তিনশ রানের উদ্বোধনী জুটি।

সাফল্যের পর প্রশংশা তো পেতেই পারেন লিটন-মুশফিক। আগের দিনই রাসেল ডামঙ্গো ডমিঙ্গো বলছিলেন, ‘দেখুন, এটিই আমার কোচিং ক্যারিয়ারে টেস্টে দেখা সবচেয়ে সেরা জুটি। ২৪ রানেই পাঁচ উইকেট চলে যায় আমাদের। অনেক চাপের মধ্যে ছিলাম, দুই ব্যাটারের এটা অসাধারণ চেষ্টা ছিল। অবশ্যই আমরা সকালে ভালো শুরু করতে পারিনি। কিছু ভুল শট ছিল। টেস্ট ক্রিকেট কঠিন, কিন্তু ছেলেরা ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে অসাধারণ স্কিল ও ক্যারেক্টার দেখিয়েছে।’
টাইগারদের টেস্ট ইতিহাসে মুশফিক-লিটন ষষ্ঠ উইকেটে প্রথমবারের মতো ডাবল সেঞ্চুরির জুটি গড়েছেন। যেটি দিন শেষে ২৭২ রানে থামে। এতোদিন সর্বোচ জুটির রেকর্ড দখলে ছিল মুশফিক-আশরাফুলের। ২০১৪ সালে গল টেস্টে ষষ্ঠ উইকেটের জুটিতে ১৯১ রানের জুটি গড়েন তারা।

মঙ্গলবার সঙ্গীর অভাবে মুশফিক পেলেন না ক্যারিয়ারের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি। ১৭৫ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন তিনি। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তুলল ৩৬৫ রান।