প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

লিবরা ইনফিউশনসের ভ্যাট ফাঁকি

মাসুম বিল্লাহ: মূল্য সংযোজন কর মূসক বা ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লিবরা ইনফিউশনস লিমিটেডের বিরুদ্ধে। ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি দুই কোটি আট লাখ ৩৩ হাজার টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। এর সঙ্গে আদায়যোগ্য সুদসহ প্রতিষ্ঠানটির কাছে মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৯১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এনবিআরের দাবি অনযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে আদায়যোগ্য মূসকের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত গৃহীত রেয়াত বাবদ তিন লাখ ৮৮ হাজার টাকা, মাসিক দাখিলপত্রে পরিশোধিত মূসক ও বার্ষিক প্রতিবেদনে পার্থক্যজনিত মূসক বাবদ ৩২ লাখ ও এর ওপর সুদ ২৬ লাখ ৪৪ হাজার, দাখিলপত্রে প্রদর্শিত উপকরণের ক্রয়মূল্যের চেয়ে বার্ষিক অডিট রিপোর্টে উপকরণের ক্রয়মূল্য বেশি দেখানোর ফলে যে মূসক ফাঁকি হয়েছে তার পরিমাণ এক কোটি ২০ লাখ টাকা। আর এর ওপর সুদ এক কোটি পাঁচ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। সিএ ফার্মের অডিট রিপোর্ট মোতাবেক উৎসে কর্তন খাতে ও অন্যান্য আয় খাতে আদায়যোগ্য সুদসহ মূসক এক কোটি তিন লাখ টাকা। এছাড়া বাড়িভাড়ার বিপরীতে ফাঁকি দেওয়া মূসকের পরিমাণ সুদসহ ৩২ হাজার ২১৪ টাকা। সব মিলিয়ে ফাঁকি দেওয়া মূসক তিন কোটি ৯১ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে উদ্ঘাটিত মূসক বাবদ দুই কোটি আট লাখ ৩৩ হাজার টাকা এবং এর ওপর সুদ বাবদ এক কোটি ৮৩ লাখ ৪১ হাজার টাকাসহ মোট তিন কোটি ৯১ লাখ ৭২ হাজার টাকা আদায় করতে সম্প্রতি বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) কমিশনার বরাবর চিঠি দিয়ে ভ্যাটের নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে লিবরা ইনফিউশনের কোম্পানি সচিব জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে ‘তিনি অফিসে নেই’ বলে জানানো হয়েছে। পরে কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এএনএম মাইনদ্দিন ‘মিটিংয়ে আছেন’ বলে জানানো হয়। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর লিবরা ইনফিউশনস লিমিটেডের তথ্যাদি নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। প্রতিষ্ঠানটির ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত দাখিলকৃত দলিলপত্র নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে এক কোটি ৬৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত আগস্টে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদের ডাকা হয়। ওই সময় লিবরা ইনফিউশনসের ট্যাক্স কনসালট্যান্ট জাহেদুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। তখন মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সহকারী পরিচালক জানান, মূল নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ক্রয়, বিক্রয় তথ্যাদি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে আবার নিরীক্ষা প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে নতুন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সংশোধিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দুই কোটি আট লাখ ৩৩ হাজার টাকার রাজস্ব উদ্ঘাটিত হয়। এর সঙ্গে সুদ যোগ করে প্রতিষ্ঠানটির কাছে মোট আদায়যোগ্য রাজস্বের পরিমাণ তিন কোটি ৯১ লাখ ৭২ হাজার টাকা।