প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

লিবিয়ায় বাংলাদেশী সাংবাদিক নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় যাওয়ার পর পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বাংলাদেশী সাংবাদিক জাহিদুর রহমান। তাঁর সঙ্গে নিখোঁজ হন লিবিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও গাড়িচালক মোহাম্মদ খালেদ।

জাহিদুর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া তিনি সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরও পরিচালক। তিনি ঢাকার সাভার এলাকার বাসিন্দা।

গত ৩ মার্চ তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রথমে লন্ডনে যান জাহিদুর। সেখান থেকে আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ডে যান তিনি। এরপর ২১ মার্চ তিনি লিবিয়ায় পৌঁছান। লন্ডন থেকে জাহিদুর রহমানের একাধিক প্রতিবেদন এনটিভিতে প্রচার হয়েছে।

পরদিন ২২ মার্চ তিনি নিজের ফেসবুকে ত্রিপোলি থেকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, গৃহযুদ্ধ কবলিত দেশটিতে প্রবেশ ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জের।

জাহিদের পরিবারের ধারণা—লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে তাঁদের অপহরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের পরিবারের ধারণা, লিবিয়ার সরকারের বাহিনীর সদস্যেরা তাঁদের ধরে নিয়ে যেতে পারে। ত্রিপোলিতে মিলিশিয়া বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কম বলেও জানান তাঁরা।

জাহিদুর রহমানের স্ত্রী তাসলিমা রহমান জানান, গত ২১ মার্চ লিবিয়ায় যান জাহিদুর। পরে ২৩ মার্চ পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। এরপর থেকেই তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জাহিদুরের স্ত্রী আরও জানান, এ ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়। এরপর জানা যায়, জাহিদুর রহমানকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা জানা যায়নি।

জানা যায়, ২২ মার্চ দুপুরে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির ময়দানে সোহাদা নামে পরিচিত গ্রিন স্কয়ারে গিয়ে একাধিক ছবি তোলেন জাহিদ। সেখান থেকে যান লেপসিস ম্যাগনা এলাকায়। গ্র্রিন স্কোয়ারে লিবিয়ায় জাতীয় পতাকা হাতে এক বৃদ্ধের সঙ্গে তিনি একাধিক ছবি পোস্ট করেন ফেসবুকে। এ সময় তার সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম টিপু এবং তাদের লিবিয়ান গাড়িচালক মোহাম্মদ খালেদও ছিলেন।

২০১১ সালে লিবিয়ার বিদ্রোহীরা গ্রীন স্কয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর গাদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহতদের স্মরণে এই জায়গাকে মার্টিয়াড স্কয়ার নাম দেয়। সেখানে গিয়ে লিবিয়ার পতাকা হাতে ছবি তোলার পর সরকারি লোকজনের সন্দেহ হতে পারে এবং এ কারণেই কাছাকাছি কোনো জায়গা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি এনটিভির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান জানিয়েছেন, প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিল, কোনো সরকারি সংস্থা তাঁদের ধরে নিয়ে গেছে। তবে, এখন মনে করা হচ্ছে মিলিশিয়া গোষ্ঠীও ধরে নিয়ে যেতে পারে। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ত্রিপোলিতে সাংবাদিক জাহিদুর রহমান বিভিন্ন জায়গায় ছবি তুলছিলেন। এখানে ছবি তোলা নিষেধ। এটি একটি বড় কারণ। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’