সুশিক্ষা

লেখক পাঠক সম্পাদক সাহিত্যপ্রেমীদের মিলনমেলা

পুরোনো বাংলা সিনেমা ও থিয়েটারের বুকলেট, কলকাতার কাগজে মুক্তিযুদ্ধের খবরসহ বিভিন্ন নিদর্শন স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। স্থান পেয়েছে উনিশ শতকের ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবহৃত স্ট্যাম্প ও বিশ শতক থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাম্প। আরও রয়েছে কলকাতার গভর্নর জেনারেল ও ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর চিঠি। অনেক পাণ্ডুলিপি, বইয়ের প্রচ্ছদ, রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত সংযুক্তির পাশাপাশি স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকালীন কয়েকটি পত্রিকার কপি। প্রদর্শনীটি ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছোট কাগজ ‘চিহ্ন’ আয়োজিত লেখক-পাঠক-সম্পাদক-সাহিত্যপ্রেমীদের নিয়ে দুদিনব্যাপী বৈশ্বিক সম্মিলন।
চতুর্থবারের মতো আয়োজিত ‘চিহ্নমেলা চিরায়তবাঙলা’ গত ১১ মার্চ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। মেলার উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। এরপর চিহ্নমেলা চিরায়তবাঙলা-১৯-এর ব্যানারে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণের পরে শহীদুল্লাহ কলা ভবন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
এরপর কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের সভাপতিত্বে প্রভাত চৌধুরীর  রবীন্দ্র-তর্পন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে বাঙালি জীবনের সাহিত্য’ বিষয়ে কথা বলেন প্রভাত চৌধুরী, সনৎকুমার সাহা, জুলফিকার মতিন, মহীবুল আজিজ, প্রবালকুমার বসু, ইমানুল হক, কানাই সেন ও সোয়েব শাহরিয়ার।
এদিন দুপুর ১২টায় বর্ণালী রায়ের সঞ্চালনায় ‘ছোট প্রকাশনার সম্ভাবনা ও সমস্যা’ নিয়ে কথা বলেন রাখাল রাহা, মনিরুল মুনির, মনজুর রহমান, অলোক বিশ্বাস, সৌভিক দে সরকার ও কাজী মামুন হায়দার রানা। বিকাল ৪টায় ‘কবির প্যাথোস ও আজকের কবিতা’ বিষয়ে কথা বলেন শোয়েব শাহরিয়ার, সরকার মাসুদ, কুমার দীপ, বদরুল হায়দার, তারেক রেজা প্রমুখ।
মেলার সমাপনী দিন মঙ্গলবার চিহ্নমেলার বিশেষত্ববিষয়ক সৃজনশীল ও মননশীল শাখায় প্রান্তিক দুজন লেখক-সাহিত্যিকসহ দুই বাংলার আটটি ছোট কাগজকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল ভারতের তিনটি ও বাংলাদেশের পাঁচটি ছোট কাগজ।
এ মেলায় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। চারুকলার শিক্ষার্থী নাজ বলেন, খুব ছোট ট্রেনের টিকিট, দিয়াশলাই বাক্স হয়তো আমাদের অনেকের কাছে তুচ্ছ। তবে মেলায় এগুলো ভালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো দেখে মনে হচ্ছে অনেক ইতিহাস হেলায় নষ্ট করেছি আমরা।
বিভিন্ন নিদর্শনের মধ্যে ছিল উনিশ থেকে বিশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে লেখা জনপ্রিয় লেখকদের বইয়ের প্রচ্ছদ। আছে সিনেমার প্রচ্ছদ, শত বছরের পুরোনো ব্যাংক চেকও। রয়েছে অটোগ্রাফ সংবলিত কাগজ, চিঠি, দিয়াশলাই বক্সের প্রচ্ছদ, ডাকটিকিট প্রভৃতি।
দুই বাংলার বিবর্তনের ইতিহাসের বিরল অনেক তথ্য ছিল এখানে। বিশেষ প্রদর্শনীর মধ্যে ছিল বিবর্তনের আলোয় সংগ্রহের ইতিহাস। এর মধ্যে একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘কলকাতা থকতা’ নামের একটি গ্রুপের তথ্য প্রদর্শনী।
কলকাতা থকতা গ্রুপের প্রধান গোপাল বিশ্বাস বলেন, কলকাতা বিপ্লব থেকে শুরু করে সবকিছুই আছে সংগ্রহতে। প্রায় ৩০ হাজার সংগ্রহ আছে আমাদের কাছে। তবে কী আছে, সে হিসাব দিতে পারব না। এ প্রদর্শনীতে আমরা বাংলাদেশকে ফোকাস করেছি। গ্রুপের অন্য সদস্য ফাল্গুনী রায় বলেন, গত ৩০ বছর ধরে সংগ্রহের কাজটি চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। এপার বাংলা ওপার বাংলার বিবর্তন নিয়েই তাদের সংগ্রহ প্রচেষ্টা। দুই বাংলার বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে। অমূল্য এসব সংগ্রহের একাধিক কপি কোনোভাবেই এখন খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। ঐতিহাসিক তথ্য সংবলিত এ প্রদর্শনীটি সবার জন্য উম্মুক্ত ছিল।
প্রসঙ্গত, এবারের মেলায় বাংলাদেশের ৯৫টি ও ভারতের ৩০টি বাংলা সাহিত্যবিষয়ক ছোট কাগজ অংশ নিয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন অনেক লেখক, পাঠক ও সম্পাদক।

আকরাম হোসাইন

সর্বশেষ..