প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

লেনদেনে সামঞ্জস্য থাকা দরকার  

 

রুবাইয়াত রিক্তা: দর সংশোধনের ধারায় গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকের পাঁচ পয়েন্ট পতন স্বাভাবিক হলেও লেনদেন ১৮৫ কোটি টাকা কমে যাওয়াকে স্বাভাবিক বলা যায় না। ইদানীং সূচকের বাড়া-কমার মধ্যে কিছুটা সামঞ্জস্য লক্ষ করা যাচ্ছে। অর্থাৎ সূচক খুব বেশি পরিমাণ ওঠানামা করছে না। কিন্তু লেনদেনের গতিতে এ ধারাবাহিকতা থাকছে না। লেনদেন একদিন ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা বাড়ছে তো অন্যদিন একই পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এ গতিতে ধারাবাহিকতা না থাকলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়। বাজারে আস্থার সংকট দেখা দেয়। তাই পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে হলে লেনদেনের মধ্যেও সামঞ্জস্য আনতে হবে। এতে পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থা বাড়বে সবার।

গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে পাঁচ পয়েন্টের বেশি। সূচক পতনে জিপির ভূমিকা ছিল ৯ পয়েন্ট। গতকাল গ্রামীণফোনের শেয়ারদর কমেছে তিন টাকা ২০ পয়সা। গত দুদিন শেয়ারটির দর সংশোধন হয়। কারণ আর্থিক প্রতিবেদন ও অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এক সপ্তাহে জিপির দর বেড়েছিল প্রায় ৩৪ টাকা। গতকাল ঢাকার বাজারে ১৮৫ টাকা লেনদেন কমে হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে আসে। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে। এ খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ১৬ শতাংশ বা ১৪৫ কোটি টাকা। এরপর বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১৫ শতাংশ বা ১৪০ কোটি টাকা। প্রকৌশল খাতে ১৫ শতাংশ বা ১৩৫ কোটি টাকা, ব্যাংক খাতে ১১ শতাংশ বা ১০০ কোটি টাকা। গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর মধ্যে আর্থিক, প্রকৌশল ও ব্যাংক খাত আগের দিনের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে। লেনদেনে নেতৃত্ব দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইফাদ অটোসের প্রায় ৪৫ কোটি টাকা, শাহজিবাজার পাওয়ার ৪৪ কোটি, কনফিডেন্স সিমেন্ট ৩৭ কোটি, ডরিন পাওয়ার সাড়ে ৩৪ কোটি, সিমটেক্স ২৮ কোটি, এমজেএল বিডি ২১ কোটি ও ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের ২০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বৃদ্ধির শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো হচ্ছেÑজুট স্পিনার্স, ইমাম বাটন, জিকিউ বলপেন, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, হাক্কানি পাল্প, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ব্র্যাক ব্যাংক, ফাইন ফুডস, রহিমা ফুড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক। এর মধ্যে অর্ধেকই ছিল দুর্বল মৌলভিত্তির। এর মধ্যে ‘জেড’ ক্যাটাগরির জুট স্পিনার্সের দর ৯.৯৯ শতাংশ, ইমাম বাটনের ৮.৮৪ শতাংশ, রহিমা ফুড ৫.১৭ শতাংশ এবং ‘বি’ ক্যাটাগরির হাক্কানী পাল্পের ৬.৭৩ শতাংশ ও ফাইন ফুডের দর ৫.৩১ শতাংশ বেড়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিএসই, সিএসইর নানা তৎপরতা সত্ত্বেও দুর্বল কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকছে।