দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

লেনদেন খরায় রাজস্ব আদায়ে ভাটা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পতনের জের ধরে সব সূচকে পিছিয়ে যাচ্ছে পুঁজিবাজার। কমেছে তালিকাভুক্ত সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে ডিএসইর প্রধান সূচক। প্রতিনিয়ত কমছে বাজার মূলধন। এই পরিস্থিতিতে দিশাহারা হয়ে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন অনেক দেশি বিনিয়োগকারী। পাশাপাশি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও। পুঁজির নিরাপত্তা রক্ষায় বাজার থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন তারা। এসবের বৈরী প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজার থেকে রাজস্ব আদায়ে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে সরকারের রাজস্ব আদায় কমেছে ২৮ শতাংশ। লেনদেনের মন্দাবস্থার কারণে সরকারের রাজস্ব আদায়ে এই ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ডিএসইর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যার পরিমাণ সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে রাজস্ব আদায় কমেছে চার কোটি ৪৩ লাখ টাকা বা ২৮ শতাংশ।

অক্টোবরে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন থেকে সাত কোটি দুই লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। আর উদ্যোক্তা পরিচালক বা প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি থেকে আদায় হয়েছে চার কোটি ২১ লাখ টাকা। এ হিসাবে অক্টোবর মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

অন্যদিকে আগের মাসে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন থেকে আট কোটি ৪৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। আর উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি থেকে আদায় হয় সাত কোটি ১৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে সেপ্টেম্বর মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয় ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলেন, রাজস্ব আদায় নির্ভর করে লেনদেনের ওপর। বাজার ভালো থাকলে লেনদেনও ভালো হয়। তখন রাজস্ব আদায়ও বাড়ে। একইভাবে বাজার মন্দা থাকলে লেনদেন কমে যায়। তখন রাজস্ব আদায়েও ভাটা পড়ে।

জানতে চাইলে ডিএসই বোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে পুঁজিবাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে, যার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে। বাজার ভালো না হলে এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসা দুষ্কর। কারণ বাজার ভালো না থাকলে লেনদেন কমে আসে। আর লেনদেন কমে গেলে এমনিতেই রাজস্ব আদায় কমে যায়।

উল্লেখ্য, গত কছরের মাঝামাঝি সময় থেকে লেনদেন কমতে শুরু করে। চলতি বছরের শুরু থেকে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়, যে কারণে রাজস্ব আদায়ও কমে গেছে। গত বছরের শেষ দিনে ডিএসইতে মোট লেনদেন ছিল ৫৩৮ কোটি টাকা। গতকাল তা নেমে এসেছে ৩১৯ কোটি টাকায়। এ সময়ে বেশিরভাগ দিনই লেনদেন ছিল ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে। গড় লেনদেনের হিসাবে তা আরও কম। মূলত এ কারণেই রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে হলে আগে লেনদেন বাড়তে হবে। আর ভালো লেনদেন হতে হলে দরকার ভালো শেয়ারের, যা আমাদের দেশে নেই। এখানে ভালো শেয়ার খুব কম। সেজন্য সবার আগে ভালো শেয়ারের জোগান বৃদ্ধি করা জরুরি।

এদিকে আগের সাত মাসের মতো অক্টোবর মাসেও বিদেশিরা পুঁজিবাজার থেকে যে পরিমাণ শেয়ার কিনছেন, বিক্রি করেছেন তার থেকে বেশি। এ নিয়ে টানা আট মাস বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি করলেন। পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এর আগে কখনও বিদেশিদের টানা আট মাস এমন পরিস্থিতিতে দেখা যায়নি। গত আট মাসে বিদেশিরা দুই হাজার ২২৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট কিনেছেন। এর বিপরীতে বিক্রি করেছেন তিন হাজার এক কোটি টাকার শেয়ার। অর্থাৎ ক্রয়ের চেয়ে ৭৭৮ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট বেশি বিক্রি করেছেন তারা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..