প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

লেনদেন বাড়ায় গতিশীল হতে শুরু করেছে বাজার

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে ধীরে ধীরে ইতিবাচক গতি ফিরতে দেখা যাচ্ছে। গতকাল সব সূচক ইতিবাচক হওয়ার পাশাপাশি লেনদেন হয়েছে ৫৬৮ কোটি টাকা। সবশেষ গত ৩ জুলাই পুঁজিবাজারে ৫০০ কোটি টাকা লেনদেন হতে দেখা যায়। সেইসঙ্গে প্রায় ৪৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। কমেছে ৩৮ শতাংশের দর। অপরিবর্তিত ছিল ১২ শতাংশ। অধিকাংশ খাত ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। লেনদেনে তেমন পরিবর্তন না হলেও কেনার চাপ বেশি ছিল। তবে বৃহৎ খাতগুলোর তুলনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতগুলো বেশি ভালো অবস্থানে ছিল। শেয়ার কেনার চাপ বেশি ছিল আর্থিক, প্রকৌশল ও জ্বালানি খাতে। ব্যাংক ছাড়া আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোকে আন্তঃব্যাংক কলমানি মার্কেট থেকে তাদের ইক্যুইটির শতকরা ৪০ শতাংশ ঋণ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতদিন এই সীমা ৩০ শতাংশ ছিল। এক সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য ঘাটতি কমতে পারে। এ সম্ভাবনায় গতকাল চাহিদা বেড়েছে আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর। এ খাতে ৬৮ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ছোট খাতগুলোর মধ্যে ভালো অবস্থানে ছিল সেবা ও আবাসন, টেলিযোগাযোগ, সিমেন্ট ও সিরামিক খাত।
গতকাল ১৪ শতাংশ করে লেনদেন হয় ওষুধ ও রসায়ন এবং বস্ত্র খাতে। ওষুধ খাতে ৫৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। জেএমআই সিরিঞ্জের সোয়া ১৮ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সা। ইন্দোবাংলা ফার্মার সোয়া ১৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৩০ পয়সা। স্কয়ার ফার্মার ১০ কোটি টাকা লেনদেন হলেও এক টাকা ১০ পয়সা দরপতন হয়। জেএমআই সিরিঞ্জ ও লিবরা ইনফিউশন দরবৃদ্ধিতে পঞ্চম ও ষষ্ঠ অবস্থানে উঠে আসে। লিবরা ইনফিউশনের দর সাড়ে সাত শতাংশ বেড়েছে। বস্ত্র খাতে বিক্রির চাপ বেশি থাকায় মাত্র ৩২ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। ভিএফএস থ্রেডের সোয়া ১৩ কোটি টাকা লেনদেন হলেও দরপতন হয় চার টাকা ৭০ পয়সা। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৩ শতাংশ। এ খাতে ৬৪ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় অবস্থান করা বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টের দর প্রায় ৯ শতাংশ, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলের দর প্রায় সাত শতাংশ ও মুন্নু জুট স্টাফলার্সের দর সোয়া ছয় শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি ও বিবিধ খাতে লেনদেন হয় আট শতাংশ করে। জ্বালানি খাতে ৬৩ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ১০ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে খুলনা পাওয়ার। প্রায় ১৩ কোটি টাকা লেনদেন হয় খুলনা পাওয়ারের। ৩০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়ে শীর্ষে অবস্থান করে ইউনাইটেড পাওয়ার। শেয়ারটির দর আট টাকা ৮০ পয়সা বেড়েছে। ডরিন পাওয়ারের প্রায় ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে সাড়ে চার টাকা। টেলিযোগাযোগ এবং সেবা ও আবাসন খাত শতভাগ ইতিবাচক ছিল। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লসের ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে পাঁচ টাকা ৩০ পয়সা। প্রায় ১০ শতাংশ করে বেড়ে সেবা ও আবাসন খাতের সাইফ পাওয়ার ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট দরবৃদ্ধিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসে। সিমেন্ট খাতে ৮৫ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। প্রিমিয়ার সিমেন্ট দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে। সিরামিক খাতে ৮০ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। মুন্নু সিরামিকের ২০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। দর বেড়েছে প্রায় তিন টাকা।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..