প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে উল্লম্ফন

নিজস্ব প্রতিবেদক:সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবস সোমবারও দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। আগের কার্যদিবসের মতো গতকালও লেনদেন হওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে এবং কমেছে সূচকও। তবে আগের দিনের তুলনায় গতকাল লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ১২ পয়েন্ট। আগের দিন রোববার সূচক কমেছিল ১৭ পয়েন্ট। অর্থবছরের দুই দিনে ডিএসইর সূচক কমল ২৯ পয়েন্ট। তার আগেও টানা চার দিন সূচক পতনে ছিল। তবে টানা দর হারাতে থাকা বাজারে দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানিগুলো ফের শেয়ারদর উল্লম্ফন লক্ষ করা গেছে।

সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এমন কোম্পানিগুলোর, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি উৎপাদনে নেই, ডিভিডেন্ড দিতে পারছে না বছরের পর বছর।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারে যখন মন্দাভাব ঘনীভূত হয়, তখন দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। উৎপাদন বন্ধ, অব্যাহত লোকসানে রয়েছেÑএমন সব কোম্পানি যেগুলোর পরিশোধিত মূলধন কম এবং শেয়ারসংখ্যা কম হওয়ার কারণে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর সুযোগ থাকে। এতে দেখা যায়, শেয়ারদর বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সেসব অখ্যাত কোম্পানির শেয়ারেই বেশি আকৃষ্ট হয়।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিলÑলোকসানি জাহিন স্পিনিং লিমিটেড। কোম্পানির দর দিনের সর্বোচ্চ অর্থাৎ ১০ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ দর দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ১০ পয়সায়। পাঁচ বছরের মধ্যে বিগত দুই বছর শেয়ারপ্রতি মোটা অঙ্কের লোকসান দিয়েছে জাহিন স্পিনিং। তবে তার আগের তিন বছর কিছুটা মুনাফায় ছিল কোম্পানি। তবে কোনোদিনই নগদ লভ্যাংশ দিতে পারেনি কোম্পানিটি।

দর বৃদ্ধিতে রয়েছে আরেক লোকসানি কোম্পানি ইস্টার্ন কেব্লস। ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ দর দাঁড়িয়েছে ১৬১ টাকা ৫০ পয়সায়। লোকসানে রয়েছে শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড। প্রতি বছরই লোকসান গুনলেও অজানা কারণে দাম চড়া রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটির শেয়ারের। লভ্যাংশ দিতে না পারায় ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন হচ্ছে শেয়ারটি। ২১ জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে দর বাড়ছে। ওইদিন ৭৭ টাকা ১০ পয়সায় শেয়ার বেচাকেনা হয়েছিল। সর্বশেষ দর দাঁড়িয়েছে ১১৯ টাকা ৫০ পয়সায়। এই সময়ে দর বেড়েছে ৪২ টাকা ৪০ পয়সা।

ডিএসই থেকে অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। এর পরই দর বেড়েছে প্রাইম টেক্সটাইল, ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং স্টেশন, জুট স্পিনার্স, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, খান ব্রাদার্স বিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ ও এমএল ডায়িং। এর মধ্যে জুট স্পিনার্স ও সাভার রিফ্রাকটরিজ লোকসানের কারণে কখনও লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

এদিকে দর কমেছে সবচেয়ে বেশি এক দশমিক ৯৯ শতাংশ প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। ২০১৫ সাল বাদে আর কোনো বছর নগদ লভ্যাংশ দিতে পারেনি কোম্পানিটি। গতকাল ৮০ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হওয়া শেয়ার আজ হাতবদল হয়েছে ৭৮ টাকা ৫০ পয়সায়। দর কমেছে মনস্পুল পেপারের। ২০ ফেব্রুয়ারি ২৭২ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হওয়ার পর ক্রমাগত দরপতন দেখা গেছে। সর্বশেষ দর দাঁড়িয়েছে ১৬২ টাকা ৭০ পয়সায়।

এপেক্স ফুটওয়্যারের দর ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ২৬৭ টাকা ২০ পয়সায় শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া দরপতনের তালিকার রয়েছে যথাক্রমে পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, নাভানা সিএনজি, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্রামীণফোন, পেপার প্রসেসিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স ও এপেক্স ট্যানারি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৩৪৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে।

ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক সাত দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৮৩ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে। তবে শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ৪১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৮৫ দশমিক ১৬ পয়েন্টে। টাকার পরিমাণে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৬২ কোটি ৬১ লাখ টাকার,যা আগের কার্যদিবস থেকে সাত কোটি ৭৮ লাখ টাকা বেশি। আগের কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল ৬৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ১১ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭০৯ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে। সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১২৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩টির দর। সিএসইতে ২৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।