সম্পাদকীয়

লোকসানি বিআরটিসির জন্য ঋণ করে বাস কেনা অগ্রহণযোগ্য

দেশের গণপরিবহন খাতে কার্যত শৃঙ্খলা নেই বললেই চলে। ব্যক্তি খাতের গণপরিবহনগুলোর বিরুদ্ধে যাত্রীদের হয়রানি ও তাদের জিম্মি করে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ বিস্তর। মূলত গণপরিবহন ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনার লক্ষ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) মাধ্যমে রাজধানীসহ সারাদেশে গণপরিবহন পরিচালনা করা হয়। কিন্তু সে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় অনেকটাই অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বিআরটিসি। এমনকি দেশে গণপরিবহন ব্যবসায় বিপুল ব্যবসা করার সুযোগ থাকলেও রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি ধারাবাহিকভাবে লোকসান গুণেই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিআরটিসির দক্ষতা না বাড়িয়ে নতুন করে বাস কেনার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা উচিত বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘রক্ষণাবেক্ষণ নেই: আবারও ৩২০টি বাস কিনতে চায় বিআরটিসি’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত এক যুগে দেড় হাজারের বেশি বাস কিনেছে বিআরটিসি। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এসব বাসের একটি বড় অংশ অচল হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বাস কেনার উদ্যোগ কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মনে করি। তদুপরি নতুন করে ৩২০টি সিএনজিচালিত বাস কিনতে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ অর্থের বড় অংশই আসবে বিদেশি ঋণ থেকে। অথচ ঋণ পরিশোধ করার সক্ষমতা সংস্থাটির নেই। কারণ সংস্থাটি ফি বছর লোকসান গুণেই চলেছে। প্রতিবছরই বিআরটিসিকে নির্ভর করতে হয় সরকারি ভর্তুকির ওপর। কাজেই ঋণ পরিশোধের দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তাবে, যার জোগান নিশ্চিত হবে মূলত জণগণের করের অর্থে। অথচ উপযুক্ত ভাড়া পরিশোধ করেও জনগণ বিআরটিসির মাধ্যমে কাক্সিক্ষত যাত্রীসেবা পাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বিআরটিসির বাস কেনার আগে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করি।

বছর বছর লোকসান দেয়ার কারণে সরকার এরই মধ্যে বেশকিছু রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি খাতকে ছেড়ে দিয়েছে। আর ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেয়ার পর অনেক প্রতিষ্ঠানই ভালোভাবে চলছে। আবার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার অনেক প্রতিষ্ঠানও লাভজনকভাবে চলছে। পেট্রোবাংলার প্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। লোকসানের বোঝা বাড়তে থাকায় এরই মধ্যে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। ব্যক্তি খাতের ব্যবস্থাপনার সহায়তায় সেগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার অসংখ্য নজির রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর লোকসান করে অদক্ষতার পরিচয় দেয়া সত্ত্বেও বিআরটিসির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কোনো প্রকার জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়ার নজির নেই। মূলত জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে না ওঠায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো জনগণের করের অর্থের যথেচ্ছ ব্যবহার করেও বহাল তবিয়তে থাকছেন বলেই ধারণা। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া জরুরি বলে মনে করি। বিআরটিসির বিদ্যমান বাসগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতা নিশ্চিত হওয়ার পরই নতুন করে বাস কেনার উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..